রাঙামাটির কাঠালতলীতে দুর্গোৎসব ঘিরে সম্প্রীতির আয়োজন, দুস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ
মেহেদী হাসান, রাঙামাটি প্রতিনিধি :
রাঙামাটি শহরের কাঠালতলীতে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও দরিদ্র-দুস্থ মানুষের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টায় কাঠালতলীর সর্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা মাতৃমন্দির প্রাঙ্গণে দুর্গোৎসব পরিচালনা কমিটি-২০২৬-এর উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন আয়োজকরা। পরে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে দরিদ্র ও দুস্থ মানুষের হাতে বস্ত্র উপহার তুলে দেওয়া হয়।
সর্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা মাতৃমন্দিরের পুরোহিত শ্রীযুক্ত শংকর চক্রবর্তী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি প্রদীপ মল্লিক।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেজর জুলফিকার রহমান, পিএসসি, উপ-অধিনায়ক, রাঙামাটি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম; রাঙামাটি কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন; রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন; শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ, রাঙামাটি পার্বত্য জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বাবু স্বপন কান্তি মহাজন এবং কাঠালতলী জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেজর জুলফিকার রহমান, পিএসসি বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ একটি সুন্দর সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি। দেশের সব ধর্মের মানুষ যেন নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখা জরুরি। এ ধরনের আয়োজন সমাজে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম বলেন, সামাজিক শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে সহাবস্থান নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। শারদীয় দুর্গোৎসবসহ সব ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
আয়োজকরা জানান, ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্য, ভক্তবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।