শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পার্বত্য সংবাদ

লামায় ৭০টি সেগুনগাছ কাটার অভিযোগ, করাতকল থেকে কাঠ জব্দ

লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের লামা উপজেলায় চুক্তিতে কেনা সেগুনবাগান থেকে ৭০টি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে আবুল কালাম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর চাম্পাতলী এলাকার একটি করাতকলের কাছে থাকা কাঠ জব্দ করেছে পুলিশ। জব্দ করা কাঠগুলো করাতকলের মালিক সাখাওয়াত হোসেন খোকনের জিম্মায় রাখা হয়েছে। এদিকে, মুঠোফোনে পুলিশের কাছে গাছ কাটা ও পরিবহন করে করাতকলে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে অভিযুক্ত আবুল কালাম।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে লামা পৌরসভার চাম্পাতলী এলাকায় সাখাওয়াত হোসেন খোকনের করাতকলের কাছে যান লামা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) নওফেল হাসান ও তাঁর সঙ্গীয় ফোর্স। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কাঠগুলো জব্দ করা হয়।

অভিযোগকারী মো. নবীর দাবি, গত ১ মে ২০২৬ তারিখে গজালিয়া মৌজার ১৪৬ ও আর/১৩৯ নম্বর হোল্ডিংয়ের জায়গায় থাকা সেগুনবাগান থেকে দুই বছরের জন্য গাছ কাটার চুক্তি করেন তিনি। এ জন্য ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। বাগানটির মালিক হিসেবে অভিযোগে মো. ইলিয়াসের নাম উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর প্রায় ১৫ বছর বয়সী ৭০টি সেগুনগাছ কেটে ফেলা হয়। খবর পেয়ে মো. নবী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত কাটা কাঠ সরিয়ে না নিতে মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

মো. নবীর অভিযোগ, মীমাংসার প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় আবুল কালামসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জন কাটা কাঠগুলো তাঁর অজান্তে চাম্পাতলী এলাকার করাতকলের কাছে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে কাঠ সরানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁকে গালিগালাজ, মারধরের চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে, পুলিশ মুঠোফোনে অভিযুক্ত আবুল কালামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, “গাছগুলো আমি কর্তন করেছি এবং আমি পরিবহন করে করাতকলে নিয়ে গেছি।” তবে গাছ কাটার চুক্তি, কাঠ পরিবহনের প্রেক্ষাপট এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি পুলিশকে জানান, ওই সময় তিনি এলাকার একটি বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠানে রয়েছেন এবং পরদিন থানায় এসে বিস্তারিত জানাবেন।

লামা থানা পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষে গাছ কাটার চুক্তি, কাঠের মালিকানা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

ক্যাটাগরি