লামায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু
নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় বান্দরবানের লামায় পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
১২ অক্টোবর ২০২৬ থেকে দেশব্যাপী এ কার্যক্রম শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে লামা উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের নির্ধারিত ওয়ার্ড এবং লামা পৌরসভার তিনটি ওয়ার্ডে প্রথম পর্যায়ে জরিপ পরিচালনা করা হচ্ছে।
সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট সম্ভাব্য খানা বা পরিবারের সংখ্যা ২৮ হাজার ২৮৫টি। অন্যদিকে পৌরসভায় সম্ভাব্য খানার সংখ্যা ২৫ হাজার ২১৯টি। উপজেলার ইউনিয়নগুলোর মধ্যে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৫৫১টি খানা রয়েছে। এ ইউনিয়নে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ১০০ জন ভাতা পাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। লামা পৌরসভার ওয়ার্ডগুলোর মধ্যে ৭ নম্বর ওয়ার্ডে সর্বোচ্চ ৮৩৮টি খানা রয়েছে।
প্রথম পর্যায়ে যেসব এলাকায় জরিপ
প্রথম পর্যায়ে লামা সদর, সরই ও রূপসী পাড়া ইউনিয়নের ১, ৩ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে লামা পৌরসভার ১, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডেও জরিপ চলবে।
তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য লামা উপজেলায় ৪৩ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও চারজন সুপারভাইজার নিয়োজিত রয়েছেন। পাশাপাশি লামা পৌরসভায় ১২ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও একজন সুপারভাইজার দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবেন।
যেভাবে উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে
সরকারের এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য নারীর ক্ষমতায়ন, অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি আর্থসামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারগুলোকে সহায়তা প্রদান করা। তথ্য সংগ্রহ শেষে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হালনাগাদ প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতিতে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা যাচাই করে যোগ্য উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, নারী পরিবারপ্রধানদের ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে নির্ধারিত পিএমটি স্কোর ও সংশ্লিষ্ট শর্তের ভিত্তিতে। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় কোয়িন্টাইলভুক্ত যোগ্য নারী পরিবারপ্রধানরা ভাতা পাওয়ার আওতায় আসবেন।
ডিসেম্বরের মধ্যে দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে দেশব্যাপী আনুমানিক ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে ডেটাবেইজে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নতুন করে ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে পরবর্তী তিন অর্থবছরে যোগ্য সব নারী পরিবারপ্রধানকে কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
কর্মসূচির তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও উপকারভোগী নির্বাচন নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত ট্যাবলেট ডিভাইসের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ এবং অনলাইন ডেটাবেইজে অন্তর্ভুক্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এদিকে, লামা উপজেলার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিবারের সব সদস্যের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অথবা জন্মনিবন্ধন সনদ একসঙ্গে সংগ্রহ করে রাখলে তথ্য প্রদান সহজ হবে।