শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৪শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সারা দেশ

মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে ভ্যানচালককে গ্রেপ্তার ও পরিবারকে হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

খুলনা জেলা প্রতিনিধি: ফাহিম ইসলাম

মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে পশ্চিম বানিয়াখামার নাজির ঘাট রোডের বাসিন্দা ভ্যানচালক মো. শিমুল হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো এবং তার পরিবারকে হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে পরিবার।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর ২০২৬) দুপুর ১২টায় খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন শিমুল হাওলাদারের ভাই মো. লতিফ হাওলাদার।

লিখিত বক্তব্যে মো. লতিফ হাওলাদার বলেন, তার ভাই শিমুল হাওলাদার একটি ইট-বালুর গোলায় ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তারা দরিদ্র ও অসহায় পরিবার। কিছুদিন আগে খুলনার বাগমারা সবেদা তলা এলাকার বাসিন্দা মিরাজ নামের এক ব্যক্তি একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন বিক্রির জন্য শিমুলের কাছে নিয়ে আসেন। পরে দরদাম করে ৩ হাজার টাকায় মোবাইলটি কেনেন শিমুল। ছেলের ব্যবহারের জন্য মোবাইলটি কেনা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

লতিফের অভিযোগ, মোবাইল কেনার কিছুদিন পর র‍্যাব-৬ থেকে শিমুলকে যোগাযোগ করে দেখা করতে বলা হয়। বিষয়টি বুঝতে না পেরে এবং ভয়ে তিনি আর সেখানে যোগাযোগ করেননি। পরে গত ১৯ সেপ্টেম্বর র‍্যাব সদস্যরা তাদের বাড়িতে গিয়ে শিমুলকে আটক করেন এবং তার কাছ থেকে ওই মোবাইল ফোনটি নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরিবারের দাবি, শিমুলকে মোবাইলটির উৎস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি ৩ হাজার টাকায় মিরাজের কাছ থেকে মোবাইলটি কেনার কথা জানান। পরে তাকে হরিণটানা থানায় নেওয়া হয় এবং পিরোজপুরের পুলিশ তাকে নিয়ে যায়। এরপর তাকে একটি ডাকাতি মামলায় এক নম্বর আসামি করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।

লতিফ হাওলাদার বলেন, তারা পরবর্তীতে পুলিশের কাছে মোবাইল বিক্রেতা মিরাজের নাম-ঠিকানা ও ছবিসহ তথ্য দেন। পরিবারের পক্ষ থেকে ওই ব্যক্তিকে তদন্তের আওতায় এনে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করার অনুরোধ করা হলেও পুলিশ তাদের বক্তব্য আমলে নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, পিরোজপুরের ব্রাহ্মণকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে মিকচান নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে গত ২৮ আগস্ট ২০২৬ ভোর আনুমানিক ৪টা ৪০ মিনিটে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় অন্যান্য মালামালের সঙ্গে একটি স্যামসাং মোবাইল ফোনও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পরিবারের দাবি, পরবর্তীতে ওই মোবাইলটি কোনোভাবে মিরাজের কাছে আসে এবং মিরাজ সেটি শিমুলের কাছে বিক্রি করেন।

লতিফ হাওলাদারের অভিযোগ, মোবাইলটি কোথা থেকে এসেছে সে বিষয়ে তার ভাইয়ের কোনো পূর্বজ্ঞান ছিল না। একজন অশিক্ষিত ও সরল ভ্যানচালক হিসেবে তিনি সাধারণভাবে মোবাইলটি কিনেছেন। তাই বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত মালিক ও মোবাইল বিক্রেতার ভূমিকা যাচাই করে তার ভাইকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার পরও তাদেরকে মিরাজকে ধরে থানায় নিয়ে আসতে বলা হয়। এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মো. লতিফ হাওলাদার বলেন, তার ভাই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিদের একজন। তাকে কারাগারে পাঠানোয় পরিবারটি আর্থিক ও মানসিকভাবে চরম সংকটে পড়েছে।

এ সময় তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং তার ভাই মো. শিমুল হাওলাদার নির্দোষ হলে তাকে আইনগতভাবে মামলা থেকে অব্যাহতির ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

ক্যাটাগরি