তুমব্রু সীমান্তে বিজিবির থার্মাল ইমেজিং থাবা: ভেস্তে গেল সাড়ে ১২ কোটি টাকার ইয়াবা চালান
হাবিবুর রশিদ হিমন, বান্দরবান প্রতিনিধি:
সীমান্তে নিরাপত্তা বাহিনীর সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও কড়া নজরদারির মুখে আবারও ব্যর্থ হলো মাদকের এক বিশাল চালান। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এক বিশেষ অভিযানে জব্দ করা হয়েছে ৪ লাখ ২০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা। উদ্ধার করা এই চালানের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১২ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমার থেকে তুমব্রু সীমান্তের পশ্চিমকুল রুহুলের দোকান ও কাটাপাহাড় এলাকা দিয়ে ইয়াবার একটি বড় চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে— এমন সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য পায় বিজিবি। খবরের সত্যতা যাচাই করে কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধিনায়কের নির্দেশে তুমব্রু বিওপির একটি চৌকস স্পেশাল টহলদল সীমান্ত জিরো লাইন থেকে ১০০ গজ ভেতরে নয়াপাড়া এলাকায় কৌশলগত অবস্থান নেয়।
রবিবার (৪ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে অন্ধকার ভেদ করে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা চালায় একদল মাদক কারবারি। তবে বিজিবির নজর এড়াতে পারেনি তারা। বিজিবি সদস্যরা অত্যাধুনিক ‘থার্মাল ইমেজার’ প্রযুক্তির মাধ্যমে দূর থেকেই চোরাকারবারীদের সন্দেহজনক গতিবিধি নিখুঁতভাবে শনাক্ত করেন।
বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলগত ধাওয়ার মুখে পড়ে কারবারিরা। পরে তারা রাতের আঁধার ও জলাশয়ের সুযোগ নিয়ে সাথে থাকা মালামাল ফেলে রেখেই দ্রুত মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে বিজিবি সদস্যরা লুঙ্গিতে মোড়ানো তিনটি পরিত্যক্ত ব্যাগ উদ্ধার করেন। ব্যাগগুলো থেকে মেলে ৪ লাখ ২০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিজিবি জানিয়েছে, মালিকবিহীনভাবে উদ্ধার হওয়া এই বিশাল ইয়াবার চালানের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সীমান্ত দিয়ে মাদক ও যেকোনো ধরনের আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে সংস্থাটি জানায়, সীমান্তে গোয়েন্দা নজরদারি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। মাদকমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে সীমান্তে বিজিবির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।