মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৭ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম

ভোলাহাটে প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন!

এম.এস.আই শরীফ, ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে হাঁসপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেরুন্নেসা বেগম ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের অর্থের অনিয়ম-তচ্ছ্রুপ, বিদ্যালয়ের জমি নিয়ে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং বিদ্যালয়ের কার্যক্রমে একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগ তুলে প্রধান শিক্ষকের অপসারণসহ বিভিন্ন দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৪টায় বিদ্যালয়ের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে হাঁসপুকুর গ্রামের শতাধিক মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ১৯৮৩ সালে স্থানীয় জনগণের উদ্যোগ ও সহযোগিতায় হাঁসপুকুর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় জমি কেনার জন্য স্থানীয়দের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হলেও অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের নামে জমি রেজিস্ট্রি না করে তৎকালীন কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের নামে জমি রেজিস্ট্রি করে নেন। পরবর্তীতে কিছু জমি বিদ্যালয়ের জন্য ফেরত দেওয়া হলেও একটি অংশ এখনো বিদ্যালয়ের নামে হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা ও সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তা পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্য মেহেরুন্নেসা বেগম বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে তার পরিবারকেন্দ্রিক প্রভাব আরও দৃশ্যমান হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক মেহেরুন্নেসা বেগম ও তার স্বামী দুজন মিলে বিদ্যালয়ের অধিকাংশ প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। বিদ্যালয়ের কাগজপত্র সংরক্ষণ, বিভিন্ন কার্যক্রমের তদারকি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণেও তার স্বামীর প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়ের কার্যক্রমে অন্যদের মতামত বা হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত থাকায় সেখানে একক নিয়ন্ত্রণের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

এছাড়া সরকারি বিভিন্ন বরাদ্দের অর্থের ব্যবহার ও হিসাব-নিকাশ নিয়েও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। এসব অভিযোগের পক্ষে প্রয়োজনীয় নথিপত্র তাদের কাছে রয়েছে বলে মানববন্ধনকারীরা জানান।
মানববন্ধনে স্থানীয়রা প্রধান শিক্ষক মেহেরুন্নেসা বেগমের অপসারণ, বিদ্যালয়ের জমি সংক্রান্ত বিষয় তদন্ত করে বিদ্যালয়ের সম্পত্তি যথাযথভাবে নিশ্চিত করা, সরকারি বরাদ্দের অর্থের হিসাব-নিকাশ যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য সংক্রান্ত বিষয়ও পুনর্বিবেচনার দাবি করেন তারা।

এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মসজিদভিত্তিক জামাতের সর্দাররা একই ধরনের অভিযোগ তুলে বলেন, দীর্ঘদিনের এসব বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। তাদের দাবি, বিদ্যালয়টি কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের নিয়ন্ত্রণে নয়, বরং স্থানীয় জনগণ ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থে পরিচালিত হওয়া উচিত।

এ বিষয়ে ভোলাহাট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ বলেন, “বিষয়টি কিছুটা জানি। ম্যানেজিং কমিটির ব্যাপারে আমার কাছে একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে বিস্তারিত জানতে সরাসরি দেখা করতে বলে তিনি এরিয়ে যান তিনি।

ক্যাটাগরি