কাপ্তাই হ্রদের পানি ব্যবস্থাপনায় অগ্রাধিকার পাবে উদ্বাস্তু ও নিম্নাঞ্চলের মানুষ।
মেহেদী হাসান, রাঙামাটি প্রতিনিধি।
কাপ্তাই হ্রদের পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে হ্রদ সৃষ্টির কারণে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী এবং হ্রদ তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের জীবন-জীবিকা, চাষাবাদ ও বসবাসের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছে কাপ্তাই হ্রদ পরিচালনা সংক্রান্ত কারিগরি সাব কমিটি।
মঙ্গলবার দুপুরে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় কাপ্তাই হ্রদের বর্তমান পানির পরিস্থিতি, পানি সংরক্ষণ, স্পিলওয়ে পরিচালনা এবং পানি নিষ্কাশনের কারণে বাঘাইছড়ি ও লংগদুসহ নিম্নাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় জানানো হয়, চলতি মৌসুমে রাঙামাটি অঞ্চলে বৃষ্টিপাত তুলনামূলক কম হওয়ায় কাপ্তাই হ্রদের পানি ধরে রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে পানি সংরক্ষণের সময় নিম্নাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষিকাজ এবং হ্রদ সৃষ্টির সময় বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর বর্তমান পরিস্থিতিও বিবেচনায় রাখা হবে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বরের পর থেকে কাপ্তাই হ্রদের পানি বিপৎসীমায় না পৌঁছানো পর্যন্ত প্রয়োজন অনুযায়ী পানি সংরক্ষণ করা হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে পানি নিষ্কাশনের জন্য খোলা স্পিলওয়ের জলকপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, হ্রদের পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে চট্টগ্রাম ওয়াসার পাঠানো একটি চিঠি এবং সাম্প্রতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন বক্তব্য নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। এসব সংবাদ অতিরঞ্জিত ও তথ্য বিকৃতির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে দাবি করে প্রতিবাদ জানানোর সিদ্ধান্ত নেয় কারিগরি সাব কমিটি।
সভায় স্থানীয় প্রতিনিধিরা জানান, কাপ্তাই হ্রদে দীর্ঘদিনে পলি জমে যাওয়ায় বিভিন্ন উজান ও তীরবর্তী এলাকায় পানির উচ্চতা তুলনামূলক বেশি থাকে। ফলে বাঘাইছড়ি, লংগদু, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ির বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলের মানুষ প্রতিবছর দীর্ঘ সময় পানিবন্দি হয়ে পড়েন। ক্ষতিগ্রস্ত হয় বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও ফসল।
স্থানীয়দের দাবি, পানি ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে হ্রদনির্ভর জনগোষ্ঠী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে নিম্নাঞ্চল সরেজমিন পরিদর্শন করে স্থানীয় মানুষের মতামত নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় কারিগরি সাব কমিটি পুনর্গঠনের বিষয়টি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী। উপস্থিত ছিলেন কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও গণমাধ্যমকর্মীরা।