এমপির এক চিঠির অপেক্ষায় আলীকদমবাসী: জট খুললেই চালু হবে চৌকি আদালত
হাবিবুর রশিদ হিমন, বান্দরবান প্রতিনিধি:
পাহাড়ের দুর্গম জনপদ বান্দরবানের আলীকদমে ন্যায়বিচার প্রাপ্তির দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এখন পূরণের দ্বারপ্রান্তে। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এখানে একটি ‘চৌকি আদালত’ স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে। প্রশাসনের উচ্চপর্যায় থেকেও মিলেছে সবুজ সংকেত। তবে আমলাতান্ত্রিক সব ধাপ পেরোলেও পুরো প্রক্রিয়াটি এখন থমকে আছে কেবল স্থানীয় সংসদ সদস্যের একটি ডিও (D.O.) লেটারের অভাবে!
সম্প্রতি বিষয়টি গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেছেন গ্রীন পলিসি মুভমেন্টের আহ্বায়ক মো. মহিউদ্দিন (বন্ধু)। তিনি জানান, স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি, ধারাবাহিক প্রচেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট মহলে বারবার যোগাযোগের পর অবশেষে মন্ত্রণালয় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অধীনে এই চৌকি আদালত চালুর বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।
জানা গেছে, আদালতটির কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার লক্ষ্যে আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের আনুষ্ঠানিক সুপারিশপত্র পাঠিয়েছেন। শুধু তাই নয়, খোদ আইনমন্ত্রী বিষয়টি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সচিবকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনাও দিয়েছেন।
সবকিছু ঠিক থাকলেও শেষ মুহূর্তে এসে একটি ডিও লেটারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। মো. মহিউদ্দিনের মতে, আদালত স্থাপন নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে যাতে কোনো ধরনের বিভাজন, বিতর্ক বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেজন্য মন্ত্রণালয় একটি স্বাধীন ও নির্ঝঞ্ঝাট প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে চাইছে। এই প্রক্রিয়াটি নির্বিঘ্ন করতেই স্থানীয় সংসদ সদস্যের একটি আনুষ্ঠানিক ডিও লেটার বা চাহিদাপত্র এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
মো. মহিউদ্দিন জানান, এমপির কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত ডিও লেটারটি পাওয়া গেলে আগামী দুই মাসের মধ্যেই আলীকদমে চৌকি আদালতের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা সম্ভব হবে ইনশাআল্লাহ। এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছেন।
আলীকদমের মতো দুর্গম এলাকায় একটি চৌকি আদালত চালু হলে স্থানীয়দের আইনি সেবা পাওয়ার চিত্রটি পুরোপুরি পাল্টে যাবে। একটি ছোট মামলার তারিখের জন্য জেলা সদরে যাওয়ার যে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি, তা থেকে মুক্তি মিলবে। এতে সাধারণ মানুষের যেমন মূল্যবান সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে, তেমনি প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার।
এখন শুধু দেখার অপেক্ষা, কবে মেলে জনপ্রতিনিধির সেই কাঙ্ক্ষিত চিঠি আর কবে পূর্ণতা পায় আলীকদমবাসীর ন্যায়বিচার পাওয়ার স্বপ্ন।