পাহাড়ে নতুন রাজনৈতিক সূর্য: শূন্যতা কাটিয়ে মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ দায়িত্বে রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী
হাবিবুর রশিদ হিমন,বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:
দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় পেল তার পূর্ণাঙ্গ অভিভাবক। বঙ্গভবনের এক জমকালো আযোজনে শপথ নিয়েছেন বান্দরবানের সাবেক সংসদ সদস্য ও ঐতিহ্যবাহী বোমাং পরিবারের সন্তান সাচিং প্রু জেরী। তাঁর এই দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে পাহাড়ি অঞ্চলের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক শূন্যতা পূরণ হলো, যা পুরো পার্বত্য এলাকা জুড়ে তৈরি করেছে এক নতুন আশার সঞ্চার।
শপথ গ্রহণের খবর পৌঁছানো মাত্রই বান্দরবান শহরের অলিগলিতে নেমে আসে আনন্দের ঢল। জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল নিয়ে রাজপথে নেমে পড়েন। উল্লাসের মাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে শহরের প্রধান মিষ্টির দোকানগুলোতে মুহূর্তেই সংকট দেখা দেয়। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, প্রিয় নেতা পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝেও ব্যাপক উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে।
সাচিং প্রু জেরীর রাজনৈতিক পথচলা হঠাৎ তৈরি হওয়া কিছু নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ পারিবারিক ঐতিহ্য ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা।
তিনি বান্দরবানের ঐতিহাসিক বোমাং সার্কেলের ১৫তম রাজা অংশৈ প্রু চৌধুরীর সন্তান। ১৯৮৬ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান, ১৯৮৯ সালে স্থানীয় সরকার পরিষদের প্রধান এবং ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।
পূর্ববর্তী মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের পর থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়টি অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছিল। রাজপথ থেকে বঙ্গভবন—দীর্ঘ রাজনৈতিক আলোচনার পর সাচিং প্রু জেরীকে এই পদে আসীন করা হলো।
শপথ গ্রহণ শেষে তিনি জানান, তিন পার্বত্য জেলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগের সার্বিক দুর্বলতা দূর করাই হবে আমার প্রথম ও প্রধান অগ্রাধিকার। দুর্গম পাহাড়ে সংকট দূর করতে সরাসরি মানুষের দ্বারে পৌঁছাব।
ঢাকা থেকে আগামী সপ্তাহে নিজ জেলায় ফিরছেন নতুন মন্ত্রী। তাঁকে রাজকীয়ভাবে বরণ করে নিতে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন ইতোমধ্যে ব্যাপক সংবর্ধনার রূপরেখা তৈরি করছে। দীর্ঘদিনের উন্নয়ন-স্থবিরতা কাটিয়ে পাহাড়জুড়ে ইতিবাচক পরিবর্তনের এক নতুন অধ্যায় শুরু হবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় অধিবাসীদের।