বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১১ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সারা দেশ

লংগদুত জেলেরা মাছ ধরার আড়ালে জুয়ার আসর, কষ্টার্জিত টাকা যাচ্ছে সর্বনাশের পথে।

মেহেদী হাসান, রাঙামাটি প্রতিনিধি:

রাঙামাটির লংগদু উপজেলার বগাচত্বর ইউনিয়নের মিনা বাজার সংলগ্ন একটি বিলের পাশে ভাসমান টিলায় মাছ ধরার আড়ালে নিয়মিত জুয়ার আসর বসার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, কাপ্তাই হ্রদে দিনভর রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাছ ধরার পর একশ্রেণির জেলে ওই ভাসমান টিলায় জুয়ার আসরে বসছেন।

একজন জেলে সারাদিন পরিশ্রম করে কখনো ৫০০, আবার কখনো সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকার মতো মাছ ধরতে পারেন। কিন্তু অভিযোগ, দিনের শেষে সেই কষ্টার্জিত টাকার বড় একটি অংশ জুয়ার আসরে হারিয়ে ফেলছেন তারা।

এতে শুধু জেলেদের আর্থিক ক্ষতিই হচ্ছে না, এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে তাদের পরিবারেও। সামান্য আয়ের সংসারে জুয়ার কারণে খাবার, সন্তানের পড়াশোনা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।

সচেতন মহলের প্রশ্ন—জীবিকার জন্য সারাদিন হ্রদে পরিশ্রম করা একজন জেলে যদি দিনশেষে নিজের উপার্জন জুয়ার টেবিলে হারিয়ে ফেলেন, তাহলে তার পরিবারের ভরণ-পোষণ চলবে কীভাবে?

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় জুয়ার আসর বসার কারণে সামাজিক অবক্ষয়ের ঝুঁকিও বাড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও অনেক জেলে এই নেশায় জড়িয়ে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা তাদের।

তাই মিনা বাজার সংলগ্ন ভাসমান টিলায় কথিত জুয়ার আসর নিয়ে দ্রুত তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জেলেদের কষ্টার্জিত অর্থ রক্ষা এবং সামাজিক অবক্ষয় ঠেকাতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর নজরদারি এখন সময়ের দাবি।

মাছ ধরার নামে জীবিকা—জুয়ার নামে সর্বনাশ নয়। কষ্টের টাকা জুয়ায় নয়, ফিরুক জেলেদের পরিবারের ঘরে।

ক্যাটাগরি