সন্তানকে বাঁচিয়ে কাপ্তাই হ্রদে তলিয়ে গেলেন বাবা, ১৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার মরদেহ।
মেহেদী হাসান, অভি রাঙামাটি প্রতিনিধি :
সন্তানকে মৃত্যুর মুখ থেকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করলেন রাঙামাটির লংগদুর জেলে ফালান মিয়া। নিজের জীবনের কথা না ভেবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত শিশুপুত্রকে আগলে রাখেন তিনি। সন্তানকে নিরাপদে একটি বোটে তুলে দিতে পারলেও নিজে আর ফিরতে পারেননি। কাপ্তাই হ্রদের গভীর পানিতে তলিয়ে গিয়ে করুণ মৃত্যু হয় তাঁর।
রোববার সন্ধ্যায় লংগদু উপজেলার গুলশাখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট মাহিল্যা গ্রামের বাসিন্দা ফালান মিয়া মাছ ধরার ছোট বোটে সার নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিল ৮-৯ বছর বয়সী শিশুপুত্র। কালাপাকুজ্যা ও গুলশাখালী ইউনিয়নের মধ্যবর্তী ১৪ নম্বর বিল এলাকায় আকস্মিকভাবে নৌকাটি ডুবে যায়।
নৌকাডুবির পর চারদিকে যখন শুধু পানি আর অন্ধকার, তখন নিজের জীবনের কথা না ভেবে সন্তানকে বাঁচাতেই মরিয়া হয়ে ওঠেন ফালান। দীর্ঘ সময় পানির মধ্যে শিশুটিকে শক্ত করে আগলে রাখেন তিনি।
একপর্যায়ে দূর থেকে একটি বোট তাদের দেখতে পায়। তখনও নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে শেষ শক্তিটুকু দিয়ে সন্তানকে নিরাপদে ওই বোটে তুলে দেন ফালান মিয়া। সন্তানকে বাঁচাতে পারলেও এরপরই তিনি কাপ্তাই হ্রদের গভীর পানিতে তলিয়ে যান।
এরপর স্থানীয়দের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধারে তল্লাশি শুরু করেন। দীর্ঘ প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর সোমবার সকালে লংগদু ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা হ্রদের পানি থেকে ফালান মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করেন।
নিহত ফালান মিয়া মো. শাহাবুদ্দিনের ছেলে। তাঁর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয়দের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
সন্তান আজ বেঁচে আছে, কিন্তু সেই সন্তানের মাথার ওপর বাবার ছায়া আর নেই। যে বাবা শেষ মুহূর্তেও সন্তানের হাত ছাড়েননি, সেই বাবাই সন্তানের জীবন বাঁচিয়ে নিজেই চলে গেলেন না ফেরার দেশে।
বাবা হয়তো আর কোনোদিন ছেলের হাত ধরে বাড়ি ফিরবেন না। কিন্তু সন্তানকে বাঁচাতে তাঁর সেই শেষ লড়াই ও আত্মত্যাগ হয়ে থাকবে পিতৃত্বের এক হৃদয়বিদারক দৃষ্টান্ত।