বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১১ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয়

কয়েক দিন আগে মারা যাওয়া মায়ের পচাগলা মরদেহ ঘরে, জানতেন না যুগ্ম সচিব-বুয়েট শিক্ষক ছেলেরা

রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকায় একটি বাসা থেকে নুরজাহান বেগম (৭২) নামে এক বৃদ্ধার পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রোববার (১ জুন) রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে মিরপুরের ৬ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের ১২ নম্বর রোডের একটি ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পল্লবী থানা পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশের ধারণা, উদ্ধারের অন্তত ৭ থেকে ৮ দিন আগে ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় মরদেহে পচন ধরেছিল।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাসান বাসির জানান, নুরজাহান বেগম মিরপুরের ওই বাসায় তার মেয়ের সঙ্গে থাকতেন। তবে মেয়ে থাকতেন অন্য একটি কক্ষে।

তিনি জানান, বেশ কিছুদিন মায়ের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রোববার এক নার্সকে ডেকে আনেন মেয়ে। ওই নার্স কক্ষে গিয়ে বৃদ্ধাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

ওসি হাসান বাসির বলেন, বৃদ্ধার মেয়েকে তার মায়ের মৃত্যুর কারণ জিজ্ঞেস করলে যে উত্তর দেন, তা আমার কাছে সন্তোষজনক মনে হয়নি। বৃদ্ধার মৃত্যুর সঠিক সময়ও তিনি বলতে পারেননি। তাই আমরা মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই বৃদ্ধার মেয়ের স্বামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। তিনি প্রায় ৫ বছর আগে মারা যান।

পুলিশ জানিয়েছে, বৃদ্ধা যে কক্ষটিতে থাকতেন, সেটি ছিল অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন, অগোছালো এবং আবর্জনায় ভরা। কক্ষের ভেতরের পরিবেশ দেখে স্পষ্ট বোঝা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি চরম অবহেলা ও পরিচর্যার অভাবে ছিলেন।

অনুসন্ধানে পুলিশ জানতে পেরেছে, মৃত নুরজাহান বেগমের ৩ ছেলেই সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত। তাদের একজন সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, একজন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং অন্যজন কানাডায় থাকেন। তবে তারা মায়ের সঙ্গে থাকতেন না, আলাদা বাসায় বসবাস করতেন।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত এক সপ্তাহ আগে তার মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এ ঘটনায় থানায় ডায়েরি করা হয়েছে এবং মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ক্যাটাগরি