বড়উঠান একাডেমির অভিযোগ: বাজে রেফারিংয়ে ‘জোর করে’ হারানো হলো ম্যাচ
চট্টগ্রাম মহানগর ক্রীড়া সংস্থার আয়োজিত চলতি পাইওনিয়ার ফুটবল টুর্নামেন্টে রেফারিং নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বড়উঠান ক্রীড়া সংস্থা ফুটবল একাডেমি দাবি করেছে, ভুল সিদ্ধান্ত ও নিয়মবহির্ভূতভাবে ম্যাচ পরিচালনার মাধ্যমে তাদের জোরপূর্বক হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকাল ৩টা ১৫ মিনিটে গ্রুপ পর্বের তৃতীয় ম্যাচে প্রভাতী ফুটবল একাডেমির মুখোমুখি হয় বড়উঠান একাডেমি। ম্যাচের শুরুতেই বিতর্কের সৃষ্টি হয়। খেলার প্রথম ১৫ মিনিটের মধ্যে প্রভাতী একাডেমি একটি পেনাল্টি পায়।
পেনাল্টি নেওয়ার সময় রেফারি খেলোয়াড়দের নির্দেশ দেন যে, গোলকিপার বল সেভ করলে দ্বিতীয়বার শট নেওয়া যাবে না (“one shot, one touch”)। রেফারির এমন নির্দেশনার ফলে বড়উঠান একাডেমির গোলকিপার পেনাল্টি সেভ করার পরও কোনো খেলোয়াড় বল স্পর্শ করেনি।
পরবর্তীতে হুইসেল ছাড়াই প্রতিপক্ষ দলের একজন খেলোয়াড় বল জালে পাঠালে প্রথমে রেফারি সেটি বাতিল করে গোলকিক দেন। তবে প্রায় ১৫ মিনিট খেলা বন্ধ থাকার পর হঠাৎ করে পূর্বের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়, যা দলটির মতে সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত।
এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানালে বড়উঠান একাডেমির খেলোয়াড়দের শান্ত থাকার আশ্বাস দেন টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির সদস্যরা। কিন্তু কোনো সুরাহা না করে, হাফটাইম সম্পন্ন হওয়ার আগেই এবং প্রায় ৫৫ মিনিট খেলা বাকি থাকা অবস্থায় ম্যাচ শেষ ঘোষণা করে প্রতিপক্ষ দলকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
ফলে সম্ভাবনাময় একটি দল কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ছিটকে পড়ে।
সাবেক ফুটবলার বাবর আলী, রহমত উল্লাহ ও মো. মূছা সহ উপস্থিত অনেক দর্শক এই ঘটনাকে “অন্যায্য ও অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, এটি ফুটবলের প্রচলিত আইনের পরিপন্থী একটি সিদ্ধান্ত।
এদিকে বড়উঠান ফুটবল একাডেমির সাধারণ সম্পাদক মো. বাহার উদ্দিন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগে তিনি ম্যাচটি বাতিল করে পুনরায় আয়োজন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ম্যাচ চলাকালে মাঠে ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকর্তা, সাবেক ফুটবলার ও রেফারি সমিতির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।