কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় এক বনরক্ষীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি ও নানা অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় এক বনরক্ষীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি ও নানা অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, স্বপন নামে ওই ব্যক্তি ফরেস্ট গার্ড পদে কর্মরত থাকলেও নিজেকে বিট অফিসার পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাঠ পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা জয়নালসহ একাধিক ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ অফিসে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ দিলেও কার্যকর কোনো প্রতিকার পাননি। বরং অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। জয়নালের আত্মীয়স্বজনের নামে একাধিক মামলা দায়েরের ঘটনাও সামনে এসেছে।
মিঠাছড়ির সেকান্দরসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিযোগ করেন, স্বপনকে নিয়মিত টাকা না দিলে মহেশখালীর ঐতিহ্যবাহী পান বরজ ও দরিদ্র মানুষের ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়, এমনকি ভাঙচুরও করা হয়। জিএমঘাট এলাকায় এক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঘর নির্মাণের জন্য অর্থ নেওয়ার পরও বাকি টাকা না দেওয়ায় তার ঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক ভিলেজার মাঝির বিবাহিত মেয়ের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে স্বপনকে হড়িয়ারছড়া ক্যাম্পে বদলি করা হলেও তিনি সেখানে যোগদান না করে আগের বিট অফিসেই অবস্থান করছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি কাঠবোঝাই গাড়ি থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং বিয়ের উপহারের আসবাব বহনকারী গাড়ি থেকে ৫০০ টাকা করে আদায় করা হয়। পাশাপাশি বালু বিক্রেতা বদি, শফিক, ইকবালসহ প্রতিটি বালু পয়েন্ট থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। চালিয়াতলী ফরেস্ট অফিসের পাশে একটি পাকা দালান নির্মাণে মোটা অঙ্কের লেনদেন হয়েছে বলেও স্থানীয়দের দাবি, যা এখন মহেশখালীতে অনেকের মুখে মুখে।
এছাড়া অভিযোগকারীরা দাবি করেন, প্রশিক্ষণকালীন এসিএফ সাজনিমুল নোমানের প্রভাব ব্যবহার করে এসব অপকর্ম চালানো হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, অতীতে এই রেঞ্জে অনেক এসিএফ প্রশিক্ষণে এলেও বর্তমান কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এত বিস্তৃত অভিযোগ আগে শোনা যায়নি।
মহেশখালীবাসীর দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং স্বপনকে অবিলম্বে অন্যত্র বদলি করা হোক।