কিশোর গ্যাং-চাঁদাবাজি-মাদক রোধ না হলে চট্টগ্রাম বাসযোগ্যতা হারাবে: নজরুল
চট্টগ্রাম নগরীতে কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিস্তার রোধ করা না গেলে নগরী দ্রুতই বাসযোগ্যতা হারাবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, নগরবাসীর নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও মাদক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব অপরাধের কারণে নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। চট্টগ্রামকে নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে দল-মত নির্বিশেষে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের দেওয়ানবাজার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে মহানগর যুব বিভাগের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম বলেন, সরকারি দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে রাজনৈতিক তথাকথিত ‘বড় ভাইদের’ প্রশ্রয়ে গড়ে ওঠা কিশোর গ্যাংগুলো সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ও স্বাধীনভাবে বসবাসের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে খুন, মারামারি ও অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। স্কুল-কলেজগামী ছাত্রী ও নারীরাও এসব অপরাধী চক্রের কারণে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, ফুটপাত, গণপরিবহন, কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে নির্মাণাধীন বড় ভবন পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে গ্যাং ও স্থানীয় সিন্ডিকেটের চাঁদাবাজি চলছে। পরিবহন খাতে অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের প্রভাব পণ্যের দামের ওপর পড়ছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে।
চট্টগ্রামকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে ইয়াবা, আইসসহ বিভিন্ন মাদক পাচার ও স্থানীয় পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর ফলে তরুণ প্রজন্ম ধ্বংসের মুখে পড়ছে। মাদকের অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে অনেক কিশোর ও যুবক চুরি, ছিনতাই এবং পারিবারিক সহিংসতার মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
নগর আমির বলেন, চট্টগ্রামকে বাসযোগ্য রাখতে প্রশাসনকে সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষ ও সাহসী ভূমিকা পালন করতে হবে। কিশোর গ্যাং ও অপরাধী চক্রের পাশাপাশি তাদের পেছনে থাকা রাজনৈতিক আশ্রয়দাতাদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। মাদক ও চাঁদাবাজির স্পটগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযান জোরদার করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রতিটি এলাকায় সামাজিক ও পেশাজীবী নেতৃত্ব, শিক্ষক, ইমাম, অভিভাবক এবং তরুণদের সমন্বয়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সন্তানরা কার সঙ্গে মিশছে এবং কোথায় সময় কাটাচ্ছে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে।
কিশোরদের সুস্থ বিনোদন ও সৃজনশীল বিকাশের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ ও পার্কের ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও ইতিবাচক সামাজিক কার্যক্রমে তাদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি মাদকের উৎস ও পাচারের রুট বন্ধ করতে হবে। মাদকাসক্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পুনর্বাসন কেন্দ্র, চিকিৎসা ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করাও জরুরি।
জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর যুব বিভাগের সভাপতি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালীর সভাপতিত্বে সভায় সঞ্চালনা করেন মহানগর সেক্রেটারি আ ন ম জোবায়ের।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন যুব বিভাগের মহানগর সহসভাপতি শফিউল আলম, সদস্য মাহবুবুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার মনজুরুল হক, অহিদুল কাদের, মাসুদ হোসাইন, ওয়াসি উদ্দিন আনসারী, তানবীর আহমদ মানিক, মুহাম্মদ আলী, খালেদ সাইফুল্লাহসহ মহানগর কমিটির অন্য নেতারা।