লামায় পাগলীরআগা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শহিদুল ইসলামের পরিবর্তে একজন দক্ষ শিক্ষক দেয়ার দাবী এলাকাবাসীর
মো.নুরুল করিম আরমান, লামা ( বান্দরবান) প্রতিনিধি
বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় পাগলীরআগা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শহিদুল ইসলামের পরিবর্তে একজন দক্ষ শিক্ষক দেওয়ার দাবী উঠেছে। উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি পাগলিরআগাবাসী এ দাবী তুলেন। বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবরে গত ২২ অক্টোবর লিখিতভাবে প্রেরিত দাবীতে মোঃ ওবাদুল হক, আমিনুল হক, আবুল হাশেম ও রেজাউল করিমসহ শতাধিক এলাকাবাসী স্বাক্ষর করেন।
দাবীতে উল্লেখ করা হয়, পাগলীর আগা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম একজন অযোগ্য শিক্ষক। তিনি ইংরেজি এবং গণিত বলতে কিছুই নিজেও জানেন না আর শিক্ষার্থীদেরকেও পড়াতে জানে না, এমনকি বাংলা শুদ্ধভাবে পড়তে পারে না। ছাত্র জীবনে একজন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন তিনি। তার শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ সমুহ বিশেষ পাস ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের। চাকরীর পূর্বে তিনি তৎকালিন ডুলাহাজারা বাজারের একজন প্রশিদ্ধ তরকারী ব্যাপারী ছিলেন। ২০০৪ সালে প্রাথমিক নিয়োগ পরীক্ষায় তিনি প্রক্সি পরীক্ষা দিয়ে (একজন মেধাবী ছাত্রকে দিয়ে) শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পায়। প্রথম দিকে লাইল্যারমার পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থাকাকালীন আওয়ামী ক্ষমতার দাপটে পাগলীর আগা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলী নেন। এ বিদ্যালয়ে গিয়ে তিনি শুধু মোবাইল নিয়ে আওয়ামী রাজনীতি করেন। দোকান-পাটে শুধু রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। এসব বিষয়ে শিক্ষক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামকে সংযত হওয়ার পরামর্শ দিলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সমসময় থানচি বদলির হুমকি দেন। তাই প্রধান শিক্ষকও তার ভয়ে কিছু ক্লাস বাংলা, বিশ্বপরিচয়, ধর্ম দিলেও তিনি ইংরেজি ও গণিত কোন ক্লাস দেন নি। যাহা বিদ্যালয়ের ক্লাস রুটিন দেখলে বা তার কাছ থেকে যাচাই করলে অথবা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যাচাই করলে ধরা পড়বে। এক কথায় তিনি একজন অযোগ্য শিক্ষক, কিন্তু তিনি দোকান পাটে বলাবলি করে তার অনেক ক্ষমতা, তার হাত লম্বা। এছাড়া আওয়ামীলীগের মন্ত্রীদের ভাগিনা পরিচয়ে এলাকার সাধারণ জনগণকে ধোকা দিয়ে আসছেন শিক্ষক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম। বিধায় এমন শিক্ষকের কারণে এলাকার কোমলমতি শিশুদের লেখাপড়ায় ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষকের এমন কর্মকান্ডে শিক্ষার্থী অভিভাবকের মধ্যে চরম ক্ষোবের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত শিক্ষক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, এলাকার কিছু লোক আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার করছেন।
এদিকে শিক্ষক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বিরুদ্ধে এলাকাবাসী কর্তৃক আনিত অভিযোগের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান, পাগলিরআগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম হেলালী।
এ বিষয়ে লামা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেবাশীষ বিশ্বাস জানায়, শিক্ষক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর আনিত অভিযোগের বিষয়ে কেউ অবগত করেনি।