শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সারা দেশ

পর্যটক ও নিরাপত্তাবাহিনীর ওপর ইউপিডিএফের হামলার নিন্দা পিসিসিপির

মেহেদী হাসান, রাঙামাটি প্রতিনিধি :
​
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক পর্যটন সড়কে পর্যটকদের গাড়ি বহর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর ইউপিডিএফের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলা এবং সড়ক অবরোধ করে পাহাড়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটি।

​গতকাল ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) সকালে সাজেক থেকে সেনাবাহিনীর স্কট দিয়ে পর্যটকদের ফিরিয়ে আনার পথে উজো বাজার এলাকায় ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের সন্ত্রাসীরা শত শত রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে এই হামলা চালায়। এতে ৬ জন নিরীহ পর্যটক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হন।

​আজ ২৩ অক্টোবর (শুক্রবার) দুপুরে এক যৌথ বিবৃতিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন কায়েস এবং সাধারণ সম্পাদক মো. হাবীব আজম এই ন্যক্কারজনক ঘটনার চরম ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন।

​বিবৃতিতে পিসিসিপি নেতৃবৃন্দের বক্তব্য:
যৌথ বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “গতকালকের এই বর্বরোচিত ও সশস্ত্র হামলা আবারও প্রমাণ করলো যে ইউপিডিএফ পাহাড়ে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সাধারণ মানুষের সুরক্ষা চায় না। পর্যটক ও নিরাপত্তাবাহিনীর ওপর নির্বিচারে শত শত রাউন্ড গুলি চালিয়ে ইউপিডিএফ তাদের সন্ত্রাসী ও সহিংস রূপ জাতির সামনে আবারও উন্মোচিত করেছে। একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্প এবং স্থানীয় পাহাড়ি-বাঙালি সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকাকে জিম্মি করে ইউপিডিএফ ও জেএসএসের আধিপত্য বিস্তারের এই নোংরা রাজনীতি আর কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দুর্গাপূজার ছুটিতে সাজেক খুলে দেওয়ার পরও পূজার ছুটি শেষ হওয়ার আগেই হঠাৎ করে সড়ক অবরোধ দিয়ে পর্যটকদের জিম্মি করে এক সশস্ত্র গোষ্ঠী অন্য গোষ্ঠীকে ঘায়েল করতে চাইছে, যা পুরো পার্বত্য অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার এক সুগভীর চক্রান্ত।”

​পিসিসিপি নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, সাজেক পর্যটন কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে বারবার অবরোধ, চাঁদাবাজি, অপহরণ, সন্ত্রাস এবং ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করে পাহাড়ে কোনো সমাধান সম্ভব নয়। গত ৩ সেপ্টেম্বর থেকে পানছড়ি ও সাজেক এলাকায় দুই সশস্ত্র আঞ্চলিক দলের গোলযোগ ও সাজেকের মন্দিরাপাড়ায় শিশু কষ্মিতা চাকমা গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাজেকের রিসোর্ট-কটেজ মালিক, জিপচালক, পরিবহন শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের রুটি-রুজির প্রধান মাধ্যম পর্যটন। আসন্ন শীতকালীন পর্যটন মৌসুমের মুখে পর্যটনকে রাজনীতির হাতিয়ার বানিয়ে ধ্বংস করার এই ষড়যন্ত্র পার্বত্য চট্টগ্রামের অর্থনীতির ভিত্তিকে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে।

​বিবৃতিতে আরও বলা হয়, স্কুলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের রাজনীতির ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার পেছনেও এই সশস্ত্র দলগুলোর হাত রয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রতি শিথিলতা নয়, বরং ইউপিডিএফ ও জেএসএস—উভয় সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বৈষম্যহীন ও কঠোর চিরুনি অভিযান পরিচালনা করতে হবে।

​পিসিসিপি নেতৃদ্বয়ের প্রধান দাবিসমূহ:

১. সাজেক সড়কে পর্যটক ও নিরাপত্তাবাহিনীর ওপর গুলিবর্ষণ ও হামলায় জড়িত ইউপিডিএফের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

২. সাজেকসহ সমগ্র পার্বত্য অঞ্চলে ইউপিডিএফ ও জেএসএসের সশস্ত্র তৎপরতা, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের সংঘাত বন্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযান জোরদার করতে হবে।

৩. সাজেক পর্যটন সড়ককে পুরোপুরি নিরাপদ ঘোষণা করতে হবে এবং পর্যটক, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জিপ চালকদের জানমালের শতভাগ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

৪. সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে যখন-তখন অবরোধের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

​সংগঠনের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন কায়েস ও সাধারণ সম্পাদক মো. হাবীব আজম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সাজেক কারও একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্র নয়। এটি মানুষের বসতি, জীবিকা ও দেশের অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এক পর্যটন কেন্দ্র। ২৩ অক্টোবরের পর কোনো অপশক্তি পাহাড়ে নতুন করে অশান্তি ও অবরোধের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে পাহাড়ের ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।”

​পিসিসিপি নেতৃবৃন্দ হামলায় আহত পর্যটক ও নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং পাহাড়ে সন্ত্রাসমুক্ত, উন্নত ও শান্তিময় পরিবেশ গঠনে সরকার ও প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা জোরদারের আহ্বান জানান।

ক্যাটাগরি