পাহাড় থেকে জাতীয় মঞ্চে সাইমুন, প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে সম্মাননা
পাহাড়ের জনপদ রাঙামাটি থেকে জাতীয় পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অবদানের স্বীকৃতি পেয়েছেন তরুণ মোঃ সাইমুন ইসলাম। পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় অবদানের জন্য তিনি বাংলাদেশ সরকারের ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ অর্জন করেছেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে তিনি এ সম্মাননা গ্রহণ করেন।
সাইমুন ইসলাম রাঙামাটিভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্বপ্নবুনন যুব সংস্থা’র রাঙামাটি সদর উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর এ অর্জনে আনন্দিত সংগঠনটির সদস্য, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। তাঁদের মতে, সাইমুনের এ সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলের তরুণদের সম্ভাবনা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের জাতীয় স্বীকৃতি।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ ও অনুদান প্রদান’ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৫ জন যুব স্বেচ্ছাসেবক ও যুব সংগঠনের প্রতিনিধিকে সম্মাননা দেওয়া হয়। তাঁদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকার চেক, সম্মাননা স্মারক ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। সাইমুন পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ মোকাবিলা বিভাগে নির্বাচিত দুজনের একজন।
স্বপ্নবুনন যুব সংস্থার অন্যতম কর্ণধার নূর তালুকদার মুন্না বলেন, উদ্যমী, সৃজনশীল ও পরিচ্ছন্ন মানসিকতার অধিকারী সাইমুন ইসলাম কর্মদক্ষতা, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা, ত্যাগ, নিষ্ঠা এবং মানবকল্যাণে নিবেদিত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এ অর্জন সম্ভব করেছেন। তাঁর সাফল্য প্রমাণ করে, আন্তরিকতা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও জাতীয় পর্যায়ে নিজের অবস্থান তৈরি করা সম্ভব।
২০১৭ সাল থেকে ‘স্বপ্নবুনন’সহ বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে কাজ করছেন সাইমুন। দীর্ঘদিনের সামাজিক কর্মকাণ্ড, অভিজ্ঞতা ও অর্জনের ধারাবাহিকতায় তিনি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের ধাপ পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে চূড়ান্তভাবে মনোনীত হন। তরুণদের শিক্ষা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও কারিগরি ক্ষেত্রে বিকাশ, নেতৃত্ব তৈরি এবং সুপ্ত প্রতিভা কাজে লাগানোর লক্ষ্যেও কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। তাঁর দীর্ঘদিনের কার্যক্রম ও অর্জনের বিবরণ নিয়ে তৈরি হয়েছে ৬৯ পৃষ্ঠার একটি বিস্তারিত প্রোফাইল।
নিজের এ অর্জনকে জীবনের অন্যতম গর্বের মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন সাইমুন। তিনি জানান, এ সাফল্যের পেছনে পরিবারের সদস্য, শিক্ষক, সহকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভালোবাসা, অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতা রয়েছে। যাঁরা বিভিন্ন সময়ে পাশে থেকে সাহস জুগিয়েছেন, তাঁদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
সাইমুনের এ অর্জন রাঙামাটির তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, দুর্যোগকালীন মানবিক সহায়তা এবং সামাজিক উন্নয়নে তরুণদের কার্যকর অংশগ্রহণ যে জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পেতে পারে, তাঁর সাফল্য সেই বার্তাই তুলে ধরেছে। ভবিষ্যতেও পরিবেশ রক্ষা, দুর্যোগ মোকাবিলা ও তরুণদের দক্ষতা বিকাশে কাজ চালিয়ে যেতে চান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, একটি দেশকে এগিয়ে নিতে যুবসমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের স্বার্থকে সবার আগে প্রাধান্য দিলেই প্রতিটি নাগরিকের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হবে এবং সবার জন্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা যাবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অসংখ্য তরুণ পড়াশোনা ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে স্বেচ্ছায় কাজ করছেন। মানুষের বিপদে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর এ উদ্যোগ দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বড় পরিবর্তন ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে তরুণদের শক্তি, সাহস, মেধা ও উদ্যোগকে কাজে লাগাতে হবে।
তরুণ উদ্যোক্তা ও প্রতিভাবান যুবকদের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকার স্টার্টআপ তহবিল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এ জন্য ৫০০ কোটি টাকার তহবিলের পরিমাণ প্রয়োজনে আরও বাড়ানো হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।