কাপ্তাই হ্রদে পাথর বাঁধা অবস্থায় যুবকের মরদেহ উদ্ধার, বোট মালিক আটক
মেহেদী হাসান, রাঙামাটি প্রতিনিধি:
রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে পাথর বেঁধে পানির নিচে লুকিয়ে রাখার অভিযোগের মধ্যে আরাফাত (১৮–১৯) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। এ ঘটনায় নিহত যুবকের মাছ ধরার বোটের মালিক শফিককে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে বরকল উপজেলার ১ নম্বর শুভলং ইউনিয়নের জোড়াটিলা এলাকার কাপ্তাই হ্রদের পানির নিচ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক শফিকের দেখানো স্থান থেকেই আরাফাতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ অক্টোবর রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন আরাফাত। তিনি শফিকের মাছ ধরার বোটে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। কেঁসকি জাল টেনে মাছ ধরা ছিল তাঁর প্রধান কাজ। নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁকে খুঁজতে তৎপরতা শুরু হয়। বোটের মালিক শফিকসহ অন্যরাও তাঁকে খোঁজার কথা জানান। পরে রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল কাপ্তাই হ্রদের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লংগদু উপজেলার মহালছড়ি এলাকা থেকে শফিককে আটক করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার বিকেলে জোড়াটিলা এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে পানির নিচ থেকে আরাফাতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের সঙ্গে পাথর বাঁধা ছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির উদ্যোগ নেয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুর রকিব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে শফিককে আটক করা হয়েছে। নিহতের ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।
মাছ ধরার শ্রমিকদের নির্যাতনের অভিযোগ
এদিকে কাপ্তাই হ্রদের বিভিন্ন এলাকায় মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের শোষণ ও নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কাট্টলী বিল, বরকল ও লংগদু এলাকার বিভিন্ন ঘোনায় কেঁসকি জালসহ নানা ধরনের জাল দিয়ে মাছ ধরার কাজে এসব শ্রমিককে নিয়োজিত করা হয়।
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন এলাকার দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে বেশি বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরার কাজে আনা হয়। পরে তাঁদের কেউ কেউ বিভিন্ন বোটের মালিক বা জেলে দলের কাছে কাজের জন্য পাঠানো হলেও প্রতিশ্রুত বেতন পান না।
এ ছাড়া কিছু শ্রমিককে নির্দিষ্ট স্থানে আটকে রেখে কাজ করানো, বাড়ি ফেরার ছুটি না দেওয়া এবং মজুরি চাইলে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে শ্রমিকদের থাকার ঘরে তালাবদ্ধ করে রেখে শুধু খাবার দিয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করানোর অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করতে বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আরাফাতের মৃত্যুর সঙ্গে শ্রমিকদের ওপর নির্যাতনের এসব অভিযোগের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আরাফাতের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং এ ঘটনায় কেউ জড়িত থাকলে তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।