কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যু, একই পরিবারের ৬ জন
নিজস্ব প্রতিবেদক,কক্সবাজার:
কক্সবাজারের উখিয়ায় মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন ‘টুপটুপ’ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের ছয় সদস্যসহ ১০ পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা (২৭)। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ছুটি কাটাতে কক্সবাজারে গিয়েছিলেন তিনি। এ ঘটনায় তাঁর পরিবারের ছয় সদস্যের মৃত্যু হয়েছে।
নিহত ছয়জন হলেন—ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিস তেহামি জেরিফ (২৪), ফারিহা কবির (৩৩) এবং ফায়িজান আহম্মেদ (৫)।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ওই রিসোর্টে বেড়াতে গিয়েছিলেন নাবিলা। তাঁর বড় বোন ইসরাত জাহান মালিহা ও বোনের স্বামী আশিকুল ইসলামও সেখানে ছিলেন। অগ্নিকাণ্ডে প্রাণে বেঁচে গেছেন আশিকুল ইসলাম। আগুন থেকে বাঁচতে তিনি রিসোর্টের দোতলা থেকে লাফ দেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আশিকুলের মামা-শ্বশুর মাসুদ ও তাঁর স্ত্রী মিলাও চিকিৎসাধীন।
নাবিলার ভাই আব্দুল আহাদ সরকার স্ট্রিমকে বলেন, “আমাদের পরিবারের ছয়জন এই ঘটনায় মারা গেছেন। দুলাভাই বেঁচে আছেন।”
এদিকে, নাবিলার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শনিবার দেওয়া এক শোকবার্তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রইছ উদ্দীন ও ট্রেজারার অধ্যাপক সাবিনা শরমীন শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
অন্যদিকে, অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করতে কাজ করছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় সংগ্রহ করা হয়েছে। উদ্ধার করা মরদেহগুলোর ডিএনএ নমুনা নেওয়া হচ্ছে। স্বজনদের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করার পর মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।