রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২রা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সারা দেশ

অটোরিকশার সিটের নিচে ২০ হাজার ইয়াবা: আলীকদমের তরুণীসহ গ্রেপ্তার ৩

হাবিবুর রশিদ হিমন, বান্দরবান প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের রামুতে যাত্রীসেবার আড়ালে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় পাচারের সময় ২০ হাজার পিস ইয়াবার একটি বড় চালান জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ ঘটনায় দুই নারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে একজন বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার বাসিন্দা।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কক্সবাজার জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৯ অক্টোবর সকাল ৯টা ১০ মিনিটে রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের দারিয়ার দিঘী রাস্তার মুখে একটি বিশেষ অভিযান চালানো হয়। সেখানে ওবাইদুল হক বাবুলের বালুমহালের সামনে ‘নুরজাহান মোটরস’ নামের নম্বরবিহীন একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা আটক করে তল্লাশি চালান ডিএনসি সদস্যরা। তল্লাশিকালে অটোরিকশার পেছনের সিটের নিচে কৌশলে লুকিয়ে রাখা একটি শপিং ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ব্যাগটির ভেতরে স্কচটেপ ও টিস্যু দিয়ে মোড়ানো দুটি প্যাকেটের ভেতর থেকে নীল রঙের জিপারযুক্ত পলিব্যাগে রাখা কমলা রঙের ২০ হাজার পিস অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত এই মাদকের মোট ওজন ১ কেজি ৮৪০ গ্রাম।

অভিযানে ঘটনাস্থল থেকেই ইয়াবা পরিবহন ও নিজ হেফাজতে রাখার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের দারিয়ার দিঘী এলাকার মো. তৈয়ব উল্লাহ (৩০), বান্দরবানের আলীকদম সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ পূর্বপালং পাড়ার বাসিন্দা শাহিনা আক্তার (২২) এবং রামু উপজেলার মৌলভীবাজার আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরী।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সোমেন মণ্ডল জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা পরস্পর যোগসাজশে মাদক কেনাবেচা ও পরিবহনের সঙ্গে জড়িত। এ ঘটনায় ডিএনসির উপপরিদর্শক মো. জাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে রামু থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

জব্দকৃত ২০ হাজার ইয়াবা ও নম্বরবিহীন অটোরিকশাটি বর্তমানে ডিএনসি কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের হেফাজতে রয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তবে মামলায় আটককৃতদের মধ্যে এক কিশোরী থাকায় দেশের প্রচলিত শিশু আইন অনুযায়ী তার ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।

ক্যাটাগরি