খুলনায় পুলিশ ইন্সপেক্টরকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে টাকা-মোবাইল ছিনতাই
খুলনা জেলা প্রতিনিধিঃ ফাহিম ইসলাম
খুলনায় এবার দুর্বৃত্তদের ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন শাহ আলম (৪৩) নামে এক পুলিশ পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর)। মহানগরীর সদর থানাধীন কলেজিয়েট স্কুলের সামনে রিকশায় যাওয়ার পথে তিন অজ্ঞাতনামা ছিনতাইকারী তাঁকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলম বিশেষ অভিযান শেষে রিকশায় করে নগরীর পুলিশ ক্লাবে ফিরছিলেন। পথে কলেজিয়েট স্কুলের সামনে পৌঁছালে তিনজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তাঁর রিকশার গতিরোধ করে। একপর্যায়ে তাঁরা তাঁর কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এ সময় বাধা দেওয়া বা ছিনতাইয়ের ঘটনার মধ্যে তাঁর দুই হাতের কব্জির ওপর চাপাতি দিয়ে কোপানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পর আহত পুলিশ পরিদর্শককে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
খুলনা সদর থানার ওসি লোকমান হোসেন জানান, শাহ আলম জেলা পুলিশে কর্মরত এবং রাতে তাঁর দায়িত্ব ছিল। দায়িত্ব পালন শেষে রিকশায় করে পুলিশ ক্লাবে ফেরার পথে তিনি ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। তিনি পুলিশ ক্লাবে থাকেন।
ওসি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা সামনে রূপসা মোড়ে পুলিশের টহল গাড়ি ছিল। তবে কলেজিয়েট স্কুলের পাশের অন্ধকার গলি থেকে বেরিয়ে ছিনতাইকারীরা এ ঘটনা ঘটিয়ে আবার গলির ভেতরে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এবং পুলিশের টহল অবস্থানের কাছাকাছি এমন ছিনতাইয়ের ঘটনায় জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় অন্ধকার গলি ও নির্জন সড়কে পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ছিনতাইপ্রবণ এলাকায় টহল জোরদারের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।
এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, ছিনতাই হওয়া টাকা ও মোবাইল ফোন উদ্ধার এবং ঘটনার পেছনের কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশের তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযুক্তদের পরিচয়, গ্রেপ্তার কিংবা ছিনতাই হওয়া মালামাল উদ্ধারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।