শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সারা দেশ

কর্মীদের কাঙ্ক্ষিত মান অর্জনে জ্ঞান, আমল ও ত্যাগের সমন্বয় প্রয়োজন – মুহাম্মদ শাহজাহান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ থানার উদ্যোগে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) স্থানীয় এক মিলনায়তনে দিনব্যাপী অগ্রসর কর্মী শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। থানা আমীর মাওলানা জাকির হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং থানা সেক্রেটারি ইসমাইল হোসেন সিরাজীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান। প্রধান আলোচক হিসেবে আলোচনা পেশ করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য উপাধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুর রব। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, একজন কর্মীর কাঙ্ক্ষিত মান অর্জনের জন্য ব্যক্তিগত, নৈতিক, সাংগঠনিক ও আদর্শিক জীবনে পরিপূর্ণতা অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। ইসলামের সুমহান আদর্শকে নিজের জীবনে বাস্তবায়নের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। কর্মীদের নিয়মিত কোরআন-হাদিস অধ্যয়ন, সময়ের যথাযথ ব্যবহার, আমলের বিশুদ্ধতা, দায়িত্বশীলতা ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার প্রতি যত্নবান হতে হবে। আত্মশুদ্ধি ও আত্মসমালোচনার মাধ্যমে নিজেদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা সংশোধনের উদ্যোগ নিতে হবে। একজন আদর্শ কর্মীর কথা ও কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকতে হবে এবং তার আচার-আচরণে ইসলামের সৌন্দর্য প্রকাশ পেতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কাঙ্ক্ষিত মানের কর্মী হিসেবে গড়ে উঠতে হলে ব্যক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। সংগঠনের দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতা, ধৈর্য, নিষ্ঠা ও ত্যাগের মানসিকতা অপরিহার্য। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আদর্শ ও নৈতিক অবস্থানে অবিচল থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পারস্পরিক সহযোগিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। কর্মীদের নিজেদের যোগ্যতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন কর্মী গড়ে তোলার প্রতিও মনোযোগী হতে হবে। জ্ঞান, আমল, চরিত্র ও দায়িত্বশীলতার সমন্বয়ের মাধ্যমেই একজন কর্মী প্রত্যাশিত মানে উন্নীত হতে পারেন।

প্রধান আলোচক উপাধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুর রব বলেন, রুকন বা সদস্যপদের শপথ একজন কর্মীর আদর্শিক অঙ্গীকার, নৈতিক দায়িত্ববোধ ও সাংগঠনিক দায়বদ্ধতার গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ। শপথের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি তার বিশ্বাস ও আদর্শের প্রতি নিষ্ঠাবান থাকার এবং জীবনের সর্বক্ষেত্রে তা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন। এই অঙ্গীকার শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ব্যক্তিগত জীবন, চরিত্র, আমল ও দায়িত্ব পালনে এর প্রতিফলন ঘটাতে হয়। শপথের তাৎপর্য অনুধাবন করে প্রত্যেক সদস্যকে নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে এবং আদর্শিক দৃঢ়তা ও জবাবদিহির মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, সাহাবায়ে কেরামের জীবন ছিল ঈমান, আনুগত্য, ধৈর্য, ত্যাগ ও কুরবানির অনন্য দৃষ্টান্ত। তাঁরা ইসলামের আদর্শ প্রতিষ্ঠা ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশনা অনুসরণ করতে গিয়ে নিজেদের সম্পদ, সময় ও জীবনের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাঁদের জীবনের প্রতিটি অধ্যায় থেকে নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ, ভ্রাতৃত্ব, ধৈর্য ও প্রতিকূলতার মধ্যেও আদর্শের ওপর অবিচল থাকার শিক্ষা পাওয়া যায়। সাহাবায়ে কেরামের জীবনাদর্শ অনুসরণ করে বর্তমান সময়ের কর্মীদেরও ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে নৈতিকতা, সততা ও মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

শিক্ষাশিবিরে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহ এবং মহানগরীর সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালী।

এতে আরও উপস্থিত ছিলেন বায়েজিদ থানা নায়েবে আমীর মাওলানা ফজলুল কাদের, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন বায়েজিদ থানার সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, থানা সহকারী সেক্রেটারি হাফেজ আবুল মানসুর, অফিস সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, থানা বায়তুলমাল সেক্রেটারি আবুল হাসেম এবং থানা কর্মপরিষদ সদস্য মুহাদ্দিস মাহবুবুর রহমান, হাফেজ রবিউল ইসলাম, হাফেজ মনিরুল ইসলাম, অধ্যক্ষ নুরুল আলম, আবু হানিফ দুলাল ও মুহাম্মদ জাফর আলমসহ সাংগঠনিক ওয়ার্ডগুলোর সভাপতিরা। দিনব্যাপী এ শিক্ষাশিবিরে বিপুলসংখ্যক কর্মী অংশগ্রহণ করেন।

ক্যাটাগরি