বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২২শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সারা দেশ

রাতের আঁধারে পাহাড় টপকে ঢুকছে মায়ানমারের মাদক, বান্দরবান সীমান্তে এক মাসেই জব্দ দেড় লাখ ইয়াবা

হাবিবুর রশিদ হিমন, বান্দরবান প্রতিনিধি:

মায়ানমার সীমান্তঘেঁষা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি অঞ্চলটি মাদক পাচারের জন্য ক্রমশ এক ভয়ংকর ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। দুর্গম পাহাড়ি পথ, ঘন জঙ্গল ও অপ্রচলিত রুট ব্যবহার করে মায়ানমার থেকে দেশে ঢোকানো হচ্ছে ইয়াবা ও বিদেশি মদসহ বিভিন্ন চোরাই পণ্য। দিনের আলোয় সীমান্ত এলাকাগুলোতে স্বাভাবিক নীরবতা বিরাজ করলেও সন্ধ্যা নামার পর থেকেই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। রাতের আঁধারে সক্রিয় হয়ে ওঠে পাচারকারী সিন্ডিকেটের পাহারাদার, বাহক ও দালাল চক্র।

সীমান্তঘেঁষা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম, সোনাইছড়ি, ফুলতলী ও জারুলিয়াছড়িসহ অন্তত ৭ থেকে ১০টি দুর্গম পয়েন্ট দিয়ে নিয়মিত মাদকের চালান আসছে। সীমান্ত পার করে আনা এসব মাদক প্রথমে পাহাড়ি এলাকার গোপন আস্তানায় জমিয়ে রাখা হয়। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে সুবিধাজনক সময়ে ছোট ছোট চালানে ভাগ করে তা ছড়িয়ে দেওয়া হয় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

এদিকে সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে বান্দরবান জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পরিচালনা করেছে বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান। জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসের ১ থেকে ৩০ তারিখ পর্যন্ত এক মাসের অভিযানে মোট এক লাখ ৫০ হাজার ২৮৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ১০৮ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদ, এক বোতল হুইস্কি ও এক বোতল বিয়ার জব্দ করার পাশাপাশি এসব ঘটনায় জড়িত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অভিযানে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার, একটি সিএনজি, একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে পাচারকারীদের কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন এবং নগদ পাঁচ লাখ ৯৪ হাজার ১০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের পরিসংখ্যান বলছে, জব্দকৃত ইয়াবার বড় একটি অংশই উদ্ধার হয়েছে নাইক্ষ্যংছড়ি ও ঘুমধুম সীমান্ত এলাকা থেকে। সীমান্তপথে মাদকের এই অনুপ্রবেশ রুখতে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন সচেতন মহল।

ক্যাটাগরি