মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২১শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সারা দেশ

খুলনায় মাংস বিক্রেতার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, দোকান ভাঙচুর

শেখ তৈয়ব,খুলনা জেলা প্রতিনিধি:

খুলনা নগরীর খানজাহান আলী থানা এলাকায় গরুর মাংস বিক্রেতার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় দোকান ভাঙচুর এবং ব্যবসায়ীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী আরমান শেখ খানজাহান আলী থানার গফ্ফার ফুডের পাশে সড়কের ওপর প্রতি শুক্রবার গরু জবাই করে মাংস বিক্রি করেন। গত ২১ সেপ্টেম্বর মামলার প্রধান আসামির নির্দেশে অপর আসামি দেলোয়ার হোসেন তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সময় আরমান শেখ টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে, সেখানে ব্যবসা করতে হলে টাকা দিতে হবে বলে দেলোয়ার হোসেন চলে যান বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

এরপর ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে আনোয়ার হোসেন ও জিয়াউর রহমান জিয়া নামের দুই ব্যক্তি আবারও আরমান শেখের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। টাকা না দিলে প্রতি সপ্তাহে গরু জবাইয়ের সময় তিন কেজি করে গরুর মাংস দিতে হবে বলেও তারা দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ নিয়ে তাদের সঙ্গে আরমান শেখের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা তার মাংস কাটার খাটিয়া সরিয়ে দেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, ঘটনার তিন দিন পর রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে সাইফুল্লাহ তারেকের নেতৃত্বে মামলায় নাম উল্লেখ করা আসামিসহ আরও ৮ থেকে ১০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি সেখানে গিয়ে ব্যবসায়ীর দোকানের চৌকি ফেলে দিয়ে ভাঙচুর করেন। এতে প্রায় ৬ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ী।

এ সময় সাইফুল্লাহ তারেক ব্যবসায়ীকে চোখ তুলে নেওয়ার হুমকি দেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আরমান শেখ সাইফুল্লাহ তারেক, জিয়াউর রহমান জিয়া, আনোয়ার হোসেন ও দেলোয়ার হোসেন নিকারী—এই চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে খানজাহান আলী থানায় মামলা করেন।

খানজাহান আলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল বাশার বলেন, ভুক্তভোগী থানায় মামলা করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ক্যাটাগরি