কাপ্তাইয়ে বাঁশ-কুরুল নিধনে হুমকিতে বনসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য:অসাধু ব্যবসা, বেকারত্ব ও সচেতনতার অভাবে ধ্বংস হচ্ছে প্রাকৃতিক সম্পদ—বন বিভাগের কার্যকর উদ্যোগের দাবি
কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:
রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে নির্বিচারে বাঁশ ও কুরুল সংগ্রহ ও বেচাকেনার কারণে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বনসম্পদ ও প্রাকৃতিক পরিবেশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, একদিকে অসাধু ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতা, অন্যদিকে দরিদ্র মানুষের জীবন-জীবিকার তাগিদ, বেকারত্ব ও পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতার অভাবে বনজ সম্পদের ওপর বাড়ছে চাপ।
কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন পাহাড়ি ও বনাঞ্চলে বাঁশ-কুরুলসহ নানা প্রাকৃতিক সম্পদ স্থানীয় মানুষের জীবিকা নির্বাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে পরিকল্পিতভাবে সংগ্রহ ও পুনরুৎপাদনের ব্যবস্থা না থাকায় অতিরিক্ত আহরণ ভবিষ্যতে এসব সম্পদের ওপর বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
স্থানীয়দের মতে, দরিদ্র মানুষ অনেক সময় জীবিকার প্রয়োজনে বনজ সম্পদ সংগ্রহ করতে বাধ্য হন। কিন্তু এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ব্যাপকভাবে বনজ সম্পদ সংগ্রহ ও বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করছেন। এতে একদিকে সাধারণ মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর, অন্যদিকে বন ও পরিবেশের ওপর তৈরি হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি চাপ।
পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হলে এর প্রভাব শুধু বনাঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী, পাখি ও অন্যান্য জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল। একই সঙ্গে মাটির উর্বরতা, পানি সংরক্ষণ, পাহাড়ের স্থিতিশীলতা এবং স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকার ওপরও এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
সচেতন মহলের অভিযোগ, বনসম্পদ রক্ষায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা বন বিভাগের। কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত নজরদারি, জনসচেতনতা সৃষ্টি, বিকল্প জীবিকার সুযোগ তৈরি এবং বনজ সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। শুধু আইন প্রয়োগ নয়, স্থানীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করাও জরুরি।
তাদের মতে, বন ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন, বন বিভাগ এবং জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাঁশ-কুরুলসহ বনজ সম্পদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা, নির্দিষ্ট সময় ও পরিমাণ নির্ধারণ এবং অবৈধ বা অতিরিক্ত আহরণের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা এখন সময়ের দাবি। আজকের অসচেতনতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে আগামী দিনে কাপ্তাইয়ের বনসম্পদ, প্রাণিসম্পদ ও মানবসম্পদ—সব ক্ষেত্রেই বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। তাই বনসম্পদ রক্ষায় অবহেলা নয়, প্রয়োজন বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা, কঠোর নজরদারি এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ।