বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পার্বত্য সংবাদ

রাঙ্গামাটিতে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় স’মিল বন্ধের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন

রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গবঘোনা পাড়া এলাকায় ঘনবসতিপূর্ণ স্থানে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও লাইসেন্স ছাড়া স’মিল পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সরকারি বা রিজার্ভ ফরেস্টের কাঠ অবৈধভাবে ব্যবহার, পরিবেশের ক্ষতিসাধন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে মগবান মৌজার গবঘোনা পাড়া এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে অভিযোগ করা হয়, একই এলাকার বাসিন্দা মো. নাছির উদ্দীন, পিতা—বদিউল আলম (প্রকাশ কানা বদি), প্রায় তিন বছর আগে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার একটি খাসপতিত জায়গায় স’মিল স্থাপন করে পরিচালনা করে আসছেন।

আবেদনকারীদের দাবি, স’মিলটি দিন-রাত প্রায় সারাক্ষণ চলার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। স’মিলের বিকট শব্দ ও কাঠ চেরাইয়ের কারণে বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও সমস্যায় পড়ছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় এ ধরনের কার্যক্রম জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

আবেদনে আরও বলা হয়, এলাকার পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে রিজার্ভ ফরেস্ট ও সরকারি বনাঞ্চল রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের আঁধারে বিভিন্ন স্থান থেকে কাঠ সংগ্রহ করে স’মিলে এনে চেরাই ও পরবর্তীতে বাজারজাত করা হচ্ছে। এসব কাঠের মধ্যে সরকারি বা রিজার্ভ ফরেস্ট থেকে অবৈধভাবে কর্তন করা কাঠ রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন আবেদনকারীরা।

এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, স’মিল বন্ধের অনুরোধ জানালে মালিক মো. নাছির উদ্দীন স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং স’মিল কেউ বন্ধ করতে পারবে না—এমন হুমকি দিয়েছেন। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ভয়ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আবেদনকারীরা বলেন, স’মিল স্থাপন ও পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, লাইসেন্স এবং নির্ধারিত শর্তাবলি পালন করা প্রয়োজন। তাই উক্ত স’মিলের বৈধ লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি না এবং প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা সরেজমিনে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

এ অবস্থায় সরকারি বনসম্পদ রক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

আবেদনের অনুলিপি বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগ; পুলিশ সুপার, রাঙ্গামাটি; বন সংরক্ষক, রাঙ্গামাটি অঞ্চল; উপজেলা নির্বাহী অফিসার, রাঙ্গামাটি সদর; সহকারী পরিচালক, জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর এবং কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হয়েছে।

আবেদনটিতে মগবান মৌজার গবঘোনা পাড়া এলাকার বাসিন্দা বখতিয়ার ইসলাম, দানু মিয়া, জহির ইসলাম, আবুল হোসেন বাবু ও মো. জাহাঙ্গীরসহ স্থানীয়রা স্বাক্ষর করেছেন।

ক্যাটাগরি