সরকারি মাতামুহুরি কলেজের কনফারেন্স হল প্রতিষ্ঠাতার নামে করার দাবি
লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
বান্দরবানের লামা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি মাতামুহুরি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব আলী মিয়ার স্মৃতি ও অবদানকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও সম্মান জানানোর দাবিতে কলেজের বর্তমান ‘বীর বাহাদুর কনফারেন্স হল’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘আলহাজ্ব আলী মিয়া কনফারেন্স হল’ নামকরণের দাবি জানানো হয়েছে।
এ দাবিতে সরকারি মাতামুহুরি কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর একটি আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। আবেদনে কলেজের প্রতিষ্ঠাতার অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে কনফারেন্স হলটির নাম তাঁর নামে করার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষের সদয় বিবেচনা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।
আবেদনকারীদের ভাষ্য, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও বিকাশের পেছনে যাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, তাঁদের অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন। সরকারি মাতামুহুরি কলেজ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে আলহাজ্ব আলী মিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে তাঁর নামে কলেজের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নামকরণ করা হলে তাঁর স্মৃতি দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত থাকবে বলে তারা মনে করেন।
তারা আরও বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধু পাঠদানের জায়গা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে এলাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বহু মানুষের অবদান। প্রতিষ্ঠাতার অবদানকে যথাযথ মর্যাদায় স্মরণ করা হলে শিক্ষার্থীরাও প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে এবং তাঁদের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের প্রতি দায়িত্ববোধ ও শ্রদ্ধাবোধ তৈরি হবে।
এ কারণে বর্তমানে ব্যবহৃত ‘বীর বাহাদুর কনফারেন্স হল’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘আলহাজ্ব আলী মিয়া কনফারেন্স হল’ করার বিষয়টি বিবেচনার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আবেদনকারীরা।
আবেদনকারীরা আশা প্রকাশ করেন, সরকারি মাতামুহুরি কলেজ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করবেন এবং প্রতিষ্ঠাতার স্মৃতি ও অবদানকে সম্মান জানানোর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
তবে কনফারেন্স হলের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কলেজ কর্তৃপক্ষের বিবেচনা ও সংশ্লিষ্ট নিয়ম-নীতি অনুসরণের ওপর নির্ভর করবে।
স্থানীয় শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলের অনেকেই মনে করেন, প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অবদান যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাই আলহাজ্ব আলী মিয়ার নামে কনফারেন্স হলের নামকরণের দাবিটি কলেজ কর্তৃপক্ষ কীভাবে বিবেচনা করে, সেদিকেই এখন সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি।