রামু চৌমুহনী থেকে দুইনারী ২০ হাজার ইয়াবাসহ আটক : ৫ হাজার গায়েবের অভিযোগ
নুর মুহাম্মদ, কক্সবাজার:
কক্সবাজারের রামু চৌমুহনী এলাকায় দুই নারী ইয়াবা কারবারির কাছ থেকে উদ্ধার করা ২০ হাজার পিস ইয়াবার মধ্যে ৫ হাজার পিস ইয়াবা কৌশলে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নামধারী সাংবাদিকের বিরুদ্ধে। পরে ১৫ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের তথ্য পুলিশকে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই নারী ইয়াবা কারবারিকে আটক করার পর তাদের কাছে থাকা ২০ হাজার পিস ইয়াবার মধ্যে থেকে কৌশলে ৫ হাজার পিস ইয়াবা সরিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, সরিয়ে নেওয়া ইয়াবাগুলো পরবর্তীতে ওই সাংবাদিকের নিজস্ব অফিসে গোপনে রাখা হয়।
এদিকে বিষয়টি আড়াল করতে ১৫ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের তথ্য জানিয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয় এবং উদ্ধারকৃত ১৫ হাজার পিস ইয়াবা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার নেপথ্যে থাকা তথ্যদাতা (সোর্স) দীর্ঘ সময় ধরে ওই ইয়াবা কারবারিদের গতিবিধি অনুসরণ করছিলেন বলে জানা গেছে। কারবারিরা রামু থানা এলাকা অতিক্রম করার সময় বিষয়টি পুলিশকে জানাতে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে ফোন করেন ওই সোর্স। তবে ব্যস্ততার কারণে ওই কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে ফোনটি রিসিভ করতে পারেননি।
পরবর্তীতে অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ কর্মকর্তা ও ওই সোর্সের সঙ্গে যোগাযোগ করা পুলিশ কর্মকর্তার মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলে দুই পক্ষের তথ্যের সমন্বয়ে ২০ হাজার পিস ইয়াবার পরিবর্তে ১৫ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের বিষয়টি সামনে আসে। এ সময় বাকি ৫ হাজার পিস ইয়াবা সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর রামু চৌমুহনী এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগটির সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পুলিশের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রয়োজন।