পাহাড়ে বেকার তরুণদের কর্মসংস্থানে সেনাবাহিনীর ‘কারিগরি ক্যাম্পেইন’
হাবিবুর রশিদ হিমন, বান্দরবান প্রতিনিধি:
দুর্গম পাহাড়ি এলাকার বেকার যুবকদের কারিগরি দক্ষতায় সমৃদ্ধ করে আত্মকর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে বান্দরবানে শুরু হয়েছে বিশেষ কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। ‘যুব উন্নয়ন ক্যাম্পেইন-২০২৬’-এর আওতায় পাহাড়ি তরুণের দল যেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে, সে লক্ষ্যেই বিনামূল্যে এই ‘এসি ও ফ্রিজ মেরামত’ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বান্দরবানের মেঘলাস্থ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) মিলনায়তনে বান্দরবান সেনা জোনের সার্বিক ব্যবস্থাপনা এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পরিচালনায় এই মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কারিগরি প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন সেনাবাহিনীর বান্দরবান সদর জোনের জোন কমান্ডার লেফট্যানেন্ট কর্নেল মোহাম্মদ হুমায়ুন রশীদ। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর যুগে কারিগরি শিক্ষার চাহিদা অপরিসীম। বেকারত্ব দূর করে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই।” তিনি পাহাড়ি যুবসমাজকে বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নিজেদের দক্ষ ও কর্মক্ষম নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
বান্দরবান কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাহাতাব উদ্দিন পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর রোয়াংছড়ি সাবজোন কমান্ডার মেজর রাফিউর রহমান রাজীবসহ অন্যান্য সেনা কর্মকর্তা, টিটিসির বিভিন্ন বিভাগের প্রশিক্ষক, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী এবং প্রশিক্ষণার্থী যুবকেরা।
আয়োজকদের সূত্রে জানা যায়, বান্দরবান জেলার বিভিন্ন দুর্গম ও প্রান্তিক পাহাড়ি গ্রাম থেকে বাছাইকৃত ২০ জন বেকার যুবককে এ প্রশিক্ষণের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। মাসব্যাপী এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের থাকা-খাওয়ার যাবতীয় খরচ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বহন করা হচ্ছে।
প্রশিক্ষণটি সম্পন্ন হলে এই তরুণরা নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে রেফ্রিজারেশন ও এসি মেরামত সেবা দিতে পারবেন। এর ফলে একদিকে যেমন গ্রাম পর্যায়ে মেরামতের খরচ ও ভোগান্তি বহুগুণে কমবে, অন্যদিকে স্থানীয় যুবকদের কারিগরি দক্ষতার মাধ্যমেই গড়ে উঠবে নতুন নতুন আত্মকর্মসংস্থান।
পাহাড়ের তরুণদের স্বাবলম্বী করে তুলতে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও এ ধরনের নানামুখী প্রযুক্তিভিত্তিক কারিগরি প্রশিক্ষণ অব্যাহত থাকবে বলে আয়োজক সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।