পাহাড়ের বেকার তরুণদের আত্মকর্মসংস্থানে সেনাবাহিনীর কারিগরি প্রশিক্ষণ।
মেহেদী হাসান, রাঙামাটি প্রতিনিধি:
রাঙামাটির দুর্গম জনপদে বেকারত্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের কারিগরি দক্ষতায় দক্ষ করে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। নিরাপত্তার পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়ন ও আর্থ-সামাজিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় রাঙামাটি রিজিয়নের সার্বিক তত্ত্বাবধানে জুরাছড়ি জোন সদর (২ বীর)-এর উদ্যোগে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে দুই সপ্তাহব্যাপী মেশিন মেরামত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ প্রশিক্ষণ চলবে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এতে জুরাছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মোট ২২ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিয়েছেন।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের মেশিন ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতির মৌলিক কার্যপ্রণালি, সাধারণ ত্রুটি শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যবহারিক মেরামত কৌশল সম্পর্কে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতির ছোটখাটো ত্রুটি শনাক্ত ও মেরামত করার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে মেশিন মেরামতের সেবা দিয়ে আয় করার সুযোগ পাবেন। এতে চাকরির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজ উদ্যোগে কর্মসংস্থান তৈরির সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
পাহাড়ি অঞ্চলের অনেক তরুণ-তরুণীর শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলেও কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত। দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে অনেকের পক্ষে দূরবর্তী শহরে গিয়ে চাকরি বা কারিগরি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করাও কঠিন। এমন বাস্তবতায় স্থানীয় পর্যায়ে হাতে-কলমে কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষ করে মেশিন ও যন্ত্রপাতি মেরামতের মতো ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে একজন বেকার যুবক নিজেই ছোট পরিসরে ব্যবসা বা সেবামূলক কার্যক্রম শুরু করতে পারেন। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে।
রাঙামাটি রিজিয়নের সার্বিক তত্ত্বাবধানে জুরাছড়ি জোন সদর (২ বীর)-এর ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এ প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য অংশগ্রহণকারীদের বাস্তবমুখী কারিগরি দক্ষতায় দক্ষ করে ভবিষ্যতে নিজস্ব কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সক্ষম করে তোলা।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থানীয় জনগণের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং আর্থ-সামাজিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
দুর্গম পাহাড়ি জনপদে কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হওয়ায় তরুণদের হাতে-কলমে কারিগরি দক্ষতায় দক্ষ করে তোলার এ উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।