চট্টগ্রামের মানুষ ঐক্য, শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক চেতনার যে নজির দেখিয়েছে, তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে: মুহাম্মদ শাহজাহান
লংমার্চ ও লালদিঘী সমাবেশ সফল করায় চট্টগ্রামবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা
চট্টগ্রাম, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ ও চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘী মাঠের সমাপনী সমাবেশ অভূতপূর্ব জনসম্পৃক্ততা, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় চট্টগ্রামবাসীসহ দেশের সর্বস্তরের জনগণ, ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম যে দৃশ্য দেখেছে, তা শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচির সফলতা নয়; এটি জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক সচেতনতা, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সহযোগিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। চট্টগ্রামের মানুষ প্রমাণ করেছে-গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে কোনো বৃহৎ আয়োজনই কঠিন নয়।”
তিনি বলেন, লংমার্চ ও লালদিঘী সমাপনী সমাবেশকে সফল করতে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষ যে সহযোগিতা করেছেন, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নগরীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সাময়িক অসুবিধা ও ব্যস্ততার মধ্যেও যে ধৈর্য, সহনশীলতা ও সহযোগিতার পরিচয় দিয়েছেন, তাদের প্রতি আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। একইভাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চট্টগ্রামে আগত লাখো মানুষের অংশগ্রহণ কর্মসূচিকে আরও অর্থবহ করেছে।
মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, “এই কর্মসূচির সফলতা কোনো ব্যক্তি বা একক সংগঠনের অর্জন নয়। এর পেছনে রয়েছে চট্টগ্রামবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা, ১১ দলীয় ঐক্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের নিরলস শ্রম এবং প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের দায়িত্বশীল ভূমিকা।”
তিনি কর্মসূচি সফল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, বিদ্যুৎ বিভাগ, সিভিল প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সেবাদানকারী সংস্থা এবং দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, “বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগমকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা, যানবাহন চলাচল, বিদ্যুৎ ও নাগরিক সেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো যে দায়িত্বশীলতা ও সহযোগিতার পরিচয় দিয়েছে, তা প্রশংসার দাবিদার। সবার সম্মিলিত সহযোগিতার কারণেই এত বড় কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।”
কেন্দ্রীয় এই নেতা ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক দলগুলোর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, চট্টগ্রামের রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং কর্মসূচির সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি আরও বলেন, “লংমার্চকে ঘিরে চট্টগ্রামে যে ঐক্য ও সহযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, তা আমাদের আগামী দিনের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। মত ও পথের ভিন্নতা থাকলেও দেশের জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার ও কল্যাণের প্রশ্নে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে পারস্পরিক সহযোগিতার এই ধারা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।”
লংমার্চ ও সমাপনী সমাবেশের সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচারে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করায় প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রতিও তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, “গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমে এই কর্মসূচির বার্তা দেশবাসীর কাছে পৌঁছে গেছে। একইসঙ্গে কর্মসূচির নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে যারা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন, তাদের অবদানও আমরা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি।”
মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, “৫ সেপ্টেম্বরের অভিজ্ঞতা আমাদের দেখিয়েছে, জনগণ যখন কোনো গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সম্পৃক্ত হয়, তখন তা শুধু একটি কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না-তা জনসম্পৃক্ততার বৃহত্তর প্রকাশে পরিণত হয়। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতেও দেশের মানুষের অধিকার ও জনকল্যাণের প্রশ্নে জনগণের এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”
সবশেষে তিনি ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ ও লালদিঘী সমাপনী সমাবেশ সফল করার ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভূমিকা রাখা চট্টগ্রামবাসী, দেশবাসী, ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ ও নেতা-কর্মী, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যম, সমাবেশ ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়ন কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন, শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানান এবং সবার সুস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনা করেন।