বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১১ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সারা দেশ

লামার উন্নয়নের অগ্রদূত আলী মিয়ার ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল

নজরুল ইসলাম (লামা, বান্দরবান) প্রতিনিধিঃ

বান্দরবানের লামা উপজেলা পরিষদের দুইবারের চেয়ারম্যান, আধুনিক লামার রূপকার, সরকারি মাতামুহুরী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোঃ আলী মিয়ার ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল শনিবার। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

২০১০ সালের ২২ আগস্ট চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলহাজ্ব মোঃ আলী মিয়া মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি চার স্ত্রী, ১০ ছেলে ও ১১ মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে যান। জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণে জীবদ্দশায় তিনি ‘মানবতার সেবক’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

জানা যায়, আলহাজ্ব মোঃ আলী মিয়া ১৯২৩ সালের ১ জানুয়ারি নোয়াখালী জেলার রামগঞ্জ উপজেলার দেবনগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত খন্দকার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬২ সালের শেষ দিকে রামগড় মহকুমা প্রশাসকের উদ্যোগে তাঁর নেতৃত্বে প্রায় ২০০ পরিবারকে বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে বসতি স্থাপনের জন্য পাঠানো হয়।

পরবর্তীতে তিনি লামার সামাজিক, শিক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৭৩-৭৪ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি বৃহত্তর লামা ইউনিয়ন পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৭৭ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি লামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

লামার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। ১৯৭৬ সালে লামা-ফাঁসিয়াখালী সড়ক নির্মাণ, ১৯৭৯ সালে লামা থানাকে মহকুমায় রূপান্তর এবং আশির দশকে লামায় বিদ্যুতায়নের ক্ষেত্রে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

১৯৮৫ সালে আলহাজ্ব মোঃ আলী মিয়া লামা উপজেলা পরিষদের প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে দ্বিতীয় মেয়াদেও তিনি উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি উপজেলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতে উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

তাঁর উদ্যোগ ও সহযোগিতায় লামা উপজেলায় অসংখ্য স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, পাঞ্জেগানা ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোর জন্য তিনি নিজেই জমি দান করেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে রাস্তা-ঘাট, সেতু, কালভার্ট ও ক্লিনিক স্থাপনেও তাঁর অবদান রয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, লামার শিক্ষা, যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রাথমিক ভিত্তি গড়ে তুলতে আলহাজ্ব মোঃ আলী মিয়ার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি লামার মানুষের কাছে আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

এদিকে ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার সকালে মরহুমের কবর জিয়ারত করা হবে। পরে বাদে এশা মোঃ তৈয়ব আলীর বাসভবনে মিলাদ মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। এতে আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও গুণগ্রাহীসহ সর্বস্তরের মানুষকে অংশগ্রহণ করে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ক্যাটাগরি