বন্যা-পরবর্তী কৃষি পুনর্বাসনে লামায় ৩ শতাধিক পরিবার পেল সবজির বীজ
লামা (বান্দরবান): বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ি কৃষক পরিবারগুলোর কৃষিকাজ পুনরুদ্ধার ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বান্দরবানের লামা উপজেলায় তিন শতাধিক পরিবারের মাঝে বিভিন্ন ধরনের সবজির বীজ বিতরণ করা হয়েছে।
লামা উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নের নয়াপাড়া, হাম্বুকপাড়া, লেমুরঝিরি, লায়লাপাড়া, মংপ্রু পাড়া, পুলিশ ক্যাম্প এলাকা ও টিয়াঝিরি এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে এসব সবজির বীজ বিতরণ করা হয়। বন্যার কারণে কৃষিকাজ ও ফসল উৎপাদনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যাতে আবারও নিজেদের জমিতে সবজি চাষ শুরু করতে পারে, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সেতু এনজিওর অর্থায়নে, রিনিউ আর্থের উদ্যোগে এবং সিক্ত বাংলাদেশ, জাগ্রত যুব সংঘ, জাগ্রত নাগরিক ফাউন্ডেশন ও সিটিজেন ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়।
আয়োজকরা জানান, পাহাড়ি এলাকার অনেক পরিবার কৃষির ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। বন্যার পর ফসলি জমি ও কৃষি উপকরণের ক্ষতির কারণে এসব পরিবারের স্বাভাবিক কৃষি কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। বিনামূল্যে সবজির বীজ সরবরাহের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত কৃষি উৎপাদনে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি নিজেদের পরিবারের চাহিদা মেটাতে সহায়তা করাই এ কার্যক্রমের অন্যতম উদ্দেশ্য।
এ উদ্যোগটি প্রাথমিকভাবে একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু করা হয়েছে। প্রকল্পের অভিজ্ঞতা, ফলাফল ও স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন বিবেচনা করে ভবিষ্যতে কার্যক্রমের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচিত এলাকাগুলোতে কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা মনে করছেন, বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে কৃষক পরিবারগুলোকে ঘুরে দাঁড়াতে এ ধরনের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে পারিবারিক পর্যায়ে সবজি উৎপাদন বাড়লে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর আর্থিক চাপও কিছুটা কমবে।
বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে কৃষকদের হাতে কৃষি উপকরণ তুলে দেওয়ার এ উদ্যোগ পাহাড়ি জনপদে কৃষি উৎপাদন পুনরুদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফেরার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।