বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১১ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সারা দেশ

বৃষ্টিতে বেহাল মহাসড়ক, বাড়ছে দূর্ঘটনা!

সেলিম উদ্দিন, কক্সবাজার।

টানা বর্ষণে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের জনগুরুত্বপূর্ণ কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী বাস ষ্টেশন অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন যানবাহন চালক ও সাধারণ মানুষ। স্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কক্সবাজার -চট্টগ্রাম মহাসড়কের খুটাখালী বাস ষ্টেশনে একাধিক অংশে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। একইভাবে কয়েকটি স্থানেও ৪ থেকে ৫ ফুট জুড়ে একাধিক বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে গর্তগুলোতে পানি জমে থাকায় প্রকৃত গভীরতা বোঝা যাচ্ছে না। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে দূরপাল্লার বাস, মোটরসাইকেল, সিএনজি অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, বাস, ট্রাক ও পণ্যবাহী যানবাহনসহ হাজারো যান চলাচল করে। গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে অনেক চালক হঠাৎ ব্রেক করছেন, আবার অনেকে বাধ্য হয়ে বিপরীত লেনে (রং সাইড) যানবাহন চালাচ্ছেন। এতে যানজটের পাশাপাশি মুখোমুখি সংঘর্ষের আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয় সিএনজি চালক শাহজান জানান, কিছুদিন আগে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ইট ফেলে সাময়িক সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে সড়কের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ভাঙা রাস্তায় নিয়মিত চলাচলের কারণে গাড়ির সাসপেনশন, স্টিয়ারিং, টায়ার ও রিম দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ঘন ঘন গ্যারেজে নিতে হচ্ছে। এতে মেরামত খরচ বাড়ার পাশাপাশি প্রতিদিনের আয়ও কমে যাচ্ছে।

খুটাখালী বেসরকারি বাজার পরিচালনা কমিটির সহ সভাপতি প্রার্থী শাহাব উদ্দিন কোম্পানি বলেন, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে অনেকেই এখন গাড়ি চালাতে  নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এতে স্থানীয়রা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তিনি দ্রুত সড়কটি সংস্কারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

বাজারের রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী নুরুল কবির বলেন, যাতায়াতে দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার আশঙ্কার কারণে অনেকে তার হোটেলে আসেন না। ফলে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সরেজমিনে আরও দেখা যায়, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে এখনো কোনো সতর্কীকরণ, রিফ্লেক্টর বা অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে বাইরের এলাকা থেকে আসা চালকদের জন্য ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে।

সচেতন নাগরিকদের দাবি, সম্ভাব্য দুর্ঘটনা ও জনদুর্ভোগ এড়াতে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো স্থায়ীভাবে সংস্কার, কার্যকর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

এ বিষয়ে কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রোকন উদ্দিন খালেদ চৌধুরী জানান, সড়কটির খানাখন্দ নিয়মিত মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে বলে জানান।

ক্যাটাগরি