চট্টগ্রাম, বুধবার, ২৯ মে ২০২৪ , ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সমুদ্র সৈকতে বিনিয়োগ করতে চাইলে থাইল্যান্ডকে জায়গা দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ২ মে, ২০২৪ ২:০০ : অপরাহ্ণ

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, থাইল্যান্ড চাইলে আমাদের দীর্ঘ ৮০ মাইল সমুদ্র সৈকতে জায়গা দেবো। কারণ থাইল্যান্ড পর্যটনের দিক থেকে অনেক অগ্রগামী। সে অভিজ্ঞতাটাও আমরা নিতে পারি। এজন্য তারা আমাদের বালুময় সমুদ্র সৈকতে বিনিয়োগ করতে চাইলে তাদের জায়গা দেয়া হবে। বৃহস্পতিবার (২ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে থাইল্যান্ড সফরের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ হাইটেক পার্কে থাইল্যান্ডকে বিনিয়োগের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি  ইউএনএসক্যাপে সব ধরণের আগ্রাসন-নৃশংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার ও যুদ্ধকে ‘না’ বলার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছি।

তিনি বলেন, ‘এ সফরের ফলে থাইল্যান্ডের কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়ার এবং সার্বিক উন্নয়নের একটা নতুন দুয়ার খুলে গেল। সেখানে একটা ভালো সুযোগ সৃষ্টি হলো। আপনারা জানেন যে, আমাদের দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা, যোগাযোগ, মতবিনিময় এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকি। কারণ, সার্বিকভাবে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য এই বন্ধনটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি বলেন, ‘কৃষি উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে কৃষিখাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আমরা থাইল্যান্ডের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে খাদ্য নিরাপত্তা সুদৃঢ় করতে পারি। এজন্য থাইল্যান্ডের সঙ্গে আমাদের সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘস্থায়ী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অধিকতর উন্নয়নকল্পে আমরা গঠনমূলক আলোচনা করি। এ সময় আমি ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি জ্ঞানভিত্তিক, ডিজিটালাইজড এবং জলবায়ু সহনশীল দেশে রূপান্তর এবং বাংলাদেশকে একটি স্মার্ট দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে মূল্যবান অংশীদার হিসেবে থাইল্যান্ডের সহযোগিতা কামনা করেছি।’

তিনি বলেন, মিয়ানমারের বিষয়টি নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন থাইল্যান্ডের সাথে আলোচনা করেছি। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে আলোচনা হয়েছে। দুদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানোর কথা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেখানে বিক্ষোভ হচ্ছে আমেরিকান সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হচ্ছে। আওয়ামী লীগ ফিলিস্তিনের পক্ষে আছে। যেখানেই নির্যাতিত মানুষ আমরা তাদের পক্ষে আছে। সেখানে যেভাবে গণহত্যা চলছে সেটা অমানবিক। ফিলিস্তিনের পক্ষে আন্দোলন করায় আমেরিকায় ৯শ’ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এটা নাকি গণতন্ত্রের অংশ! তাদের কাছ থেকে মানবতার ছবক শুনতে হয়, এটা দুর্ভাগ্য।

 

আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, নির্বাচনের আগে অনেকের মনে শঙ্কা ছিল আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসে কিনা! আমার শক্তি দেশের জনগণ। সবসময় জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করেছি। আমরা জনগণের ভোটেই এসেছি। মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে নির্বাচন সবক্ষেত্রেই চক্রান্ত ষড়যন্ত্র পরাজিত হয়েছে জনগণের শক্তিতে। আমরা সামরিক শাসকদের পকেট থেকে আসিনি। নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা ভোটের অধিকার হরণ করেছিলো, তারাই এখন ভোটের অধিকারের কথা বলে। কেউ কেউ উন্নয়ন দেখে না। যতো ভালো কাজ করি তারা বদনাম করবেই। কিছু লোক দেশের বিরুদ্ধে সবার কান ভারী করতে চায়। দেশের মানুষ অনেকে প্রভাবিত হয়, বিদেশিরাও প্রভাবিত তো হবেই।

 

Print Friendly and PDF