চট্টগ্রাম, সোমবার, ২০ মে ২০২৪ , ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা, জনজীবন বিপর্যস্ত

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল, ২০২৪ ৪:৩৫ : অপরাহ্ণ

 

টানা আট দিন চুয়াডাঙ্গার উপর দিয়ে বয়ে চলছে তাপপ্রবাহ। তীব্র গরমে ও তাপদাহে জনজীবন অতিষ্ঠ ও স্থবির হয়ে পড়েছে। অতিপ্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বের না হওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চালানো হচ্ছে প্রচারণা।

আজ শুক্রবার (১৯শে এপ্রিল) বিকাল ৩ টায় চুয়াডাঙ্গা জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় বাতাসে আদ্রতার পরিমাণ ছিলো ১৭ শতাংশ। এটি দেশে চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

 

তীব্র তাপদাহে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে জেলার খেটে খাওয়া মানুষ। একটু প্রশান্তির খোঁজে গাছের ছায়া ও ঠাণ্ডা পরিবেশে স্বস্তি খুঁজছে স্বল্প আয়ের মানুষরা। বেলা বাড়ার সাথে সাথে রাস্তা ঘাটে লোকজনের চলাচল সীমিত হয়ে পড়ছে। তবে অনেকে জরুরি প্রয়োজন ও জীবন-জীবিকার তাগিদে প্রচণ্ড তাপদাহ উপেক্ষা করে কাজে বের হচ্ছেন।

 

অতিরিক্ত গরম ও তীব্র তাপের কারণে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, জ্বরসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে শত শত শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী রোগীরা বহির্বিভাগ ও ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছে। তীব্র গরমের ফলে বাড়ছে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে প্রতিদিন শিশু ওয়ার্ডে কমপক্ষে ৫০ থেকে ৬০ জন শিশু ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং বহির্বিভাগেও প্রতিদিন অন্তত এক হাজার রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।

 

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানায়, ২০০২ সালে চুয়াডাঙ্গায় প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার প্রতিষ্ঠার পর ২০০৫ সালের ২ জুন চুয়াডাঙ্গা জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এরপর ২০১৪ সালের ২১ মে চুয়াডাঙ্গা জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এ জেলার রেকর্ডকৃত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

 

গত বছর ২০২৩ সালে ১৯ ও ২০ এপ্রিল বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, টানা ৩ দিন ধরে এ জেলায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হচ্ছে। তার সাথে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে একটানা ৮ দিন ধরে। এধারা আরও কিছুদিন অব্যহত থাকতে পারে।

 

Print Friendly and PDF