চট্টগ্রাম, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪ , ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চামড়া শিল্পের প্রসারে মহাপরিকল্পনা, পোশাক খাতের মতো মিলবে প্রণোদনা

প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি, ২০২৪ ১০:৩৪ : পূর্বাহ্ণ

 

দেশের রপ্তানি আয় বাড়াতে পোশাক খাতের পর এবার গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে চামড়া শিল্পকে। জোরেশোরে চলছে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ। এই পদক্ষেপকে ব্যবসায়ীরা ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, কেবল পরিকল্পনা নয়;  সঠিক বাস্তবায়নে নিতে হবে বাস্তব পদক্ষেপ।

দেশের উদীয়মান অর্থনীতিতে সম্ভাবনার আরেক খাত চামড়াজাত পণ্য। কিন্তু সমন্বিত পদক্ষেপ কিংবা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অভাবে তেমন বিকশিত হয়নি এই শিল্পের। তবে গেল বছর প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর চামড়া শিল্পকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে শুরু হয় নানা তৎপরতা। সবশেষ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গেল সপ্তাহে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দৃশ্যমান হয় সরকারি নানা উদ্যোগ।

তথ্য বলছে-শিল্প, বাণিজ্য,অর্থসহ কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর কাজ করছে মহাপরিকল্পনা তৈরিতে। যাতে থাকছে চামড়া শিল্প ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ গঠন, লেদারি ওয়ার্কিং গ্রুপের সনদ অর্জন, শুল্কমুক্ত নমুনা পাসবই ব্যবহার আর বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ভিসা সহজ করা।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ বলেন, এই খাতে বিদেশিদের বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে হবে। এজন্য তাদের আস্থা অর্জন করতে হবে। সেজন্য নানা পদক্ষেপ নেয়া দরকার। আমাদের চামড়া শিল্প নীতিমালা আছে। ২১-২৪ রূপরেখাতে বলা আছে, এই খাতে কী কী প্রয়োজন। সেগুলো একে একে ধরে বাস্তবায়ন করলে উন্নয়ন সম্ভব।

 

বৈঠকে বলা হয়, কাজ চলছে সাভার চামড়া শিল্পনগরীর দ্বিতীয় পর্যায়ের অত্যাধুনিক সম্প্রসারণের। রাজধানী শহর থেকে উপজেলা পর্যায়ে নির্দিষ্ট স্থানে চালু করতে হবে কসাইখানা। আর পোশাক খাতের আদলে তৈরি হচ্ছে চামড়া শিল্পের প্রণোদনা নীতি।

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম (টিটু) বলেন, গার্মেন্টস শিল্পের মতো চামড়া শিল্পেও প্রণোদনা দেয়া হবে। পাটজাত পণ্যেও একই ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকবে। কারণ, চামড়া ও পাট-দুটিই আমাদের নিজস্ব পণ্য।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটে রপ্তানি আয়ের আরেকটি বড় উৎস হতে পারে চামড়া শিল্প। তাই কেবল পরিকল্পনা নয়, নিতে হবে বাস্তব পদক্ষেপ।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, এই খাতে এখনও উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আসেনি। কলকারখানায় কাঠামোগত রদবদল ঘটেনি। লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের মান নিশ্চিত করা যায়নি। পরিবেশগতভাবে উন্নয়ন করতে না পারলে চামড়া শিল্পের সম্ভাবনা কম।

২০২৫ সালের মধ্যে চামড়াজাত ও পাদুকা শিল্পে শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় স্থান পাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

 

 

সুত্র: চ্যানেল২৪

Print Friendly and PDF