চট্টগ্রাম, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

‘লক্ষ্মীপুরে বিয়ের খাবার খেয়ে অসুস্থ শতাধিক’

প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি, ২০২৪ ১০:৫০ : পূর্বাহ্ণ

শরীফ হোসেন রিংকন, লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বিয়ের অনুষ্ঠানের খাবার খেয়ে প্রায় দুই শতাধিক লোক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।শুক্রবার বিকালে ফরিদগঞ্জ উপজেলার চর মান্দারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর অবস্থায় অসুস্থদের রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স,  ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মতলব আইসিডিডিআরবি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কেউবা আবার প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়িতেই রয়েছেন। খাবারে বিষক্রিয়ার কারণে অসুস্থদের বেশিরভাগই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন।
স্বজনরা জানান, শুক্রবার দুপুরে চর মান্দারী গ্রামের তফাদার বাড়ির মরহুম তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে বিবাহোত্তর ভোজনের আয়োজন করা হয়। এতে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন ৪’শ জন। দুপুরে খাবার খেয়ে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিকালে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের বমি ও পাতলা পায়খানা হচ্ছে। এ অবস্থায় অনেকেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন।
রায়পুর উপজেলার কেরোয়া ইউনিয়নের বসু পাটোয়ারী বাড়ির বরের বাবা অসুস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা তছলিম উদ্দিন পাটোয়ারী জানান, দুপুরে তিনি এবং তার সাথের লোকজন বিয়েবাড়িতে খাবার খান। পরে বাসায় যাওয়ার পথে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। অতিরিক্ত বমি ও পেটব্যথার কারণে স্বজনরা তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তারা জানায়, ওই বিয়ের অনুষ্ঠানের খাবার খেয়ে দুই শতাধিক লোক অসুস্থ অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। বরের ভাই মাসুম মনোয়ার জানান, খাবার খেয়ে তাদের পরিবারের সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তবে তার ভাই বর মানিক ও নববধূ সুস্থ আছেন।
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ বাহারুল আলম জানান, খাবারে বিষক্রিয়ার কারণে অন্তত ২৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বেশ কয়েকজন। তাদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেকের অবস্থাই গুরুতর। তাদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে, প্রত্যেকেই রয়েছেন শঙ্কামুক্ত।
বিয়ে বাড়িতে খেতে যাওয়া বর পক্ষের আত্মীয় মোঃ আবদুর রহিম জানান, অনুষ্ঠানে খাবারের আয়োজন ছিল মনোমুগ্ধকর। তবে, সন্ধ্যাঘন মূহুর্তে ধীরে ধীরে লোকজন অসুস্থ হতে থাকলে সকলকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
বরের বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম জানান, বিয়ের আয়োজনে কনে পক্ষের কোনপ্রকার ত্রুটি ছিলনা। তবে, সন্ধ্যাঘন মূহুর্তে সবাই যখন অসুস্থ হতে থাকে তখনই সবাইকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তবে, এঘটনায় কারো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

 

Print Friendly and PDF