চট্টগ্রাম, বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪ , ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মানুষের জীবন ও মানবতা বাঁচাতে যুদ্ধকে না বলতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৩ নভেম্বর, ২০২৩ ১০:২৮ : পূর্বাহ্ণ

 

মানবজাতি ও মানবতা বাঁচাতে বিশ্বকে সব ধরনের যুদ্ধ-সংঘাতকে দৃঢ়ভাবে না বলতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকারপ্রধান বলেছেন, ‘আজকের বিশ্বায়নের পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন ও মানবতাকে বাঁচাতে সকল যুদ্ধ ও সংঘাতকে দৃঢ়ভাবে না বলা অবশ্যই সহজ হবে।’

বুধবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘জি২০ লিডারস সামিট ২০২৩’ এ যোগ দিয়ে একথা বলেন তিনি। এ বছর সম্মেলনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘এক পৃথিবী, এক পরিবার, এক ভবিষ্যৎ’। যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুরক্ষিত ও সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলতে সকলকে অনুপ্রাণিত করবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

 

 

ফিলিস্তিনে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসনের প্রসঙ্গ টেনে সরকারপ্রধান বলেন, দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে আমরা ফিলিস্তিনে ১০ হাজারের বেশি নিরপরাধ-নিষ্পাপ শিশুসহ হাজার হাজার নারী-পুরুষকে নির্মম হত্যা ও মর্মান্তিকভাবে গণহত্যা করতে দেখছি। এইসব জঘন্য হত্যাযজ্ঞ গোটা বিশ্বকে হতবাক করেছে এবং বিশ্বব্যাপী দুর্দশাকে আরও তীব্র এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে মন্থর করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আজকের শীর্ষ সম্মেলনে উপস্থিত সকল সম্মানিত বিশ্ব নেতার প্রতি গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির এক সুরে আওয়াজ তুলতে এবং এ যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য অবিলম্বে নির্বিঘ্নে মানবিক ত্রাণ পাঠাতে উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।’

 

 

প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক নতুন শুভসূচনায় ভূমিকা রাখতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সৎ প্রতিবেশী-সুলভ সুসম্পর্ক গড়ে তোলা ও বিশ্বব্যাপী এর প্রসার একটি ভালো সূচনা হতে পারে। এ সময় বাংলাদেশ ও ভারতের চমৎকার সম্পর্কের প্রতি বিশ্ব নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশীরা অবশ্যই বন্ধুত্বপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে সকল সমস্যার সমাধান করতে পারে। আমরা আমাদের সমুদ্রসীমা ও স্থল সীমানা মীমাংসার মাধ্যমে তা প্রমাণ করেছি।’

শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বিশ্বের জন্য বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি আনন্দিত যে গত এক বছরের জি২০ প্ল্যাটফর্মে আমাদের আন্তরিক আলোচনা, বিশেষ করে নেতৃবৃন্দের এ শীর্ষ সম্মেলন আমাদের মধ্যে উদ্দেশ্য ও দায়িত্ববোধের সঞ্চার করেছে।’

বর্তমান সময়ে বিশ্ব-পরিবারের সকলের সুস্থতা নিশ্চিত করা সবার কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘সেই চেতনায় আমি বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে ১ মিলিয়নেরও বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিককে (রোহিঙ্গা) প্রত্যাবাসনে আপনাদের আন্তরিক সমর্থন চাই।’ এ সময় জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি ফলপ্রসূ হবে এবং এটি বাস্তব পদক্ষেপে রূপান্তরিত হবে বলেও নিজের বিশ্বাসের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

 

 

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি আনন্দিত যে, নেতারা নয়াদিল্লিতে নিম্ন ও মধ্যম-আয়ের দেশগুলোকে বিশেষ করে, যেগুলো জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, প্রযুক্তি রূপান্তর, ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো ও নারী-নেতৃত্বাধীন উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত, উন্নয়নের বিভিন্ন চাহিদা পূরণে বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংকগুলোকে শক্তিশালী করতে সম্মত হয়েছেন, একটি উন্নত ভবিষ্যতের জন্য এটি অপরিহার্য।’

এ সময় বাংলাদেশকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও নারীর ক্ষমতায়নে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি ‘স্মার্ট বাংলাদেশে’ রূপান্তরিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, প্রায় ১৫ বছর বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৩৫তম বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

 

 

সরকারপ্রধান বলেন, ‘এই সময়ের মধ্যে দারিদ্র্য ২০০৬ সালে ২৫ দশমিক ১ শতাংশ থেকে ২০২২ সালে ৫ দশমিক ৬ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে এবং অন্যান্য অনেক কিছুর মধ্যে মাথাপিছু আয় পাঁচগুণ বেড়েছে।’

এদিন জি২০ প্রেসিডেন্সির সফল পরিচালনার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ প্রতিবেশী দেশটিকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে গত সেপ্টেম্বরে দেশটির নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত জি২০ নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনের ফলাফলকে এগিয়ে নিতে আজকের শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জি২০ নয়াদিল্লি নেতাদের ঘোষণা গ্লোবাল সাউথের প্রকৃত উদ্বেগ ও সমস্যাকে প্রতিফলিত করে।

 

 

সুত্র: চ্যানেল২৪

Print Friendly and PDF