চট্টগ্রাম, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪ , ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

তিন বছরের ব্যস্ত সূচিতে বাংলাদেশ : খেলতে পারে যেসব ম্যাচ

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর, ২০২৩ ৫:৩৫ : অপরাহ্ণ

 

বিশ্বকাপের প্রাক বাছাইপর্বের ম্যাচে দুই লেগে মালদ্বীপকে (৩-২) গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ দল। এই জয় লাল-সবুজের জার্সিধারীদের এনে  দিয়েছে একগুচ্ছ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ। আগামী তিন বছরে ফিফা বিশ্বকাপ বাছাই এবং এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব মিলিয়ে অন্তত ১২ টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে জামাল ভূঁইয়ারা।

বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী তিন দল। তারা হলো অস্ট্রেলিয়া, ফিলিস্তিন এবং লেবানন। এই তিন দলের সঙ্গে দুই লেগে ছয়টি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। জেনে নেয়া যাক ম্যাচগুলো সম্পর্কে :

প্রিলিমিনারি কোয়ালিফাইং রাউন্ড টু 

বিশ্বকাপ প্রাক-বাছাইয়ের শেষ ধাপ এটিই। এই পর্যায়ে ৩৬টি দল নয় গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে। বাংলাদেশ রয়েছে গ্রুপ আইতে। যেখানে প্রতিপক্ষে হিসেবে পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ফিলিস্তিন এবং লেবাননকে।

‘গ্রুপ-এ’ থেকে ‘গ্রুপ আই’ এই নয়টি গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুটি করে দল মিলিয়ে মোট ১৮টি দল বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের পরবর্তী রাউন্ডে যাবে। আর এই ১৮টি দল সরাসরি ২০২৭ সালের এশিয়ান কাপের টিকিট নিশ্চিত করবে। বাদ পড়া ১৮টি দলের ২০২৬ বিশ্বকাপ স্বপ্নের ইতি ঘটবে ওখানেই।

বাংলাদেশ দল যদি সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারে তবে পরের রাউন্ডে যাওয়ার একটি সুযোগ থাকবে। কিন্তু বাস্তবতা বড্ড কঠিন হবে শীর্ষ দুইয়ে থাকার। তবে যদি কোন অঘটন দেখানো সম্ভব হয়, তবে বিশ্বকাপের মূল বাছাইপর্বে চলে যাবে জামাল ভূঁইয়ারা।

বিশ্বকাপ বাছাই

দ্বিতীয় রাউন্ডের নয় গ্রুপের শীর্ষ ১৮ দলকে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের মূল পর্বে এসে তিন গ্রুপে ভাগবে। প্রতিটি গ্রুপে ছয়টি করে দল খেলবে। এখানে আবার হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে রাউন্ড রবিন লিগ অনুষ্ঠিত হবে। ওই তিন গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুটি করে দল অর্থাৎ মোট ছয়টি দল ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে।

গ্রুপের তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে থাকা দলগুলো যাবে প্লে-অফে। আর প্রতি গ্রুপের শেষ দুই দল বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ করে শুধুমাত্র এশিয়ান কাপের কোয়ালিফাইং নিয়ে ব্যস্ত থাকবে।

 

এশিয়ান প্লে-অফ 

বিশ্বকাপ বাছাইয়ের তিন গ্রুপ থেকে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে থাকা ছয়টি দল আবারও দুই গ্রুপে হয়ে সিঙ্গেল রাউন্ড রবিন ফরম্যাটে একে অপরের মোকাবেলা করবে। এই পর্বে প্রতিটি দল মাত্র দুটি করে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে। দুই গ্রুপের বিজয়ী দুটি দল ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট পাবে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা দুটি দল আন্ত:মহাদেশী প্লে-অফে খেলতে যাবে।

 

আন্ত:মহাদেশীয় প্লে-অফে খেলার নিয়ম

এখানে খেলতে আসা দলগুলোর সামনে বিশ্বকাপে খেলার শেষ সুযোগ থাকবে। অন্য মহাদেশীয় দলগুলোর সাথে পাল্লা দিয়ে এশিয়ান প্রতিনিধিদের মূল পর্বেও টিকিট কাটতে হবে। যদিও কোন মহাদেশীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এশিয়া খেলবে সেটা এখনো নিশ্চিত হয়নি।

 

এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের চূড়ান্ত রাউন্ড

বিশ্বকাপের প্রাক বাছাইয়ের রাউন্ড টু তে বাংলাদেশ বাদ পড়লে সরাসরি এখানে খেলতে দেখা যাবে তাদের। বাস্তবতার নিরিখে অস্ট্রেলিয়া-ফিলিস্তিনদের গ্রুপ থেকে এখানেই দেখা যেতে পারে লাল-সবুজের জার্সিধারীরদের।

এই পর্বে আসার জন্য প্রিলিমিনারি যৌথ বাছাইপর্বে রাউন্ড ওয়ানে পরাজিত হওয়া ১১ দলের মধ্যে সর্বোচ্চ র‌্যাঙ্কধারী দলটি বাদে বাকি ১০টি দল পাঁচটি হোম অ্যান্ড এ্যাওয়ে ম্যাচে একে অপরের সাথে লড়বে। বাংলাদেশের কাছে হেরে যাওয়া মালদ্বীপকেও দেখা যাবে এখানে। জয়ী পাঁচটি দল এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের চূড়ান্ত রাউন্ডে উত্তীর্ন হবে। প্লে-অফের পাঁচ বিজয়ী ও সর্বোচ্চ র‌্যাঙ্কধারী দলটির সাথে বিশ্বকাপ প্রিলিমিনারি যৌথ বাছাইপর্বের রাউন্ড টুয়ে বাদ পড়া ১৮টি দল অর্থাৎ সর্বমোট ২৪টি দল এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের চূড়ান্ত রাউন্ডে খেলবে। ২৪টি দলকে ৬টি গ্রুপে বিভক্ত করা হবে। প্রতি গ্রুপের শীর্ষ দলগুলো ২০২৭ এশিয়ান কাপে খেলবে।

এই পর্বেও খেলা হবে হোম এন্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে। যার অর্থ, চার দলের গ্রুপে তিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ৬টি ম্যাচ খেলতে পারবে বাংলাদেশ। সুযোগ থাকবে এশিয়ান কাপে খেলারও।

 

 

সূত্র: চ্যানেল ২৪

Print Friendly and PDF