চট্টগ্রাম, শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪ , ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মারা গেছেন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট, ২০২৩ ১০:২৬ : অপরাহ্ণ

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী মারা গেছেন ( ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। সোমবার (১৪ আগস্ট) রাত ৮টা ৪০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে রোববার (১৩ আগস্ট) বিকেলে তাকে অসুস্থতার কারণে কাশিমপুর কারাগার থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

জানা যায়, রোববার বিকেলে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী অসুস্থ হয়ে পড়লে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। এ সময় তার বুকে ব্যথা হচ্ছিল। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য বিকেলেই অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় পাঠানো হয়।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল ফাতে মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাকে জানিয়েছেন যে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মাইল্ড হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। হাসপাতালে আনার পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রেফার্ড করা হয়েছে।’

 

 

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের পার্ট-১-এর জেল সুপার মো. শাহজাহান আহমেদ জানান, হঠাৎ দেলোয়ার হোসেন সাঈদী অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করছিলেন। তাকে কারা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করা হয়। তিনি বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

 

 

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ২০১০ সালের ২৯ জুন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন সাঈদী। পরে ২ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

 

দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী ১৯৪০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুরের ইন্দুরকানী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তার প্রাথমিক ধর্মীয় শিক্ষা অর্জন করেন তার বাবার প্রতিষ্ঠিত স্থানীয় একটি মাদরাসায়। তিনি ১৯৬২ সালে ছারছিনা আলিয়া মাদরাসায় ভর্তি হন ও পরে খুলনা আলিয়া মাদরাসায় স্থানান্তরিত হন। বাংলা, উর্দু, আরবি ও পাঞ্জাবি ভাষায় দক্ষ এবং ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায়ও তার দক্ষতা রয়েছে।

১৯৮০’র দশকের প্রথমদিকে সাঈদী দেশব্যাপী ইসলামী ওয়াজ-মাহফিল ও তাফসির করা শুরু করেন এবং তার সুন্দর বক্তব্যদানের জন্য দেশব্যাপী জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এ সময়ই তিনি রাজনীতিতে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমির ছিলেন।

১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নির্বাচনী জোট গঠন করে এবং তিনি এই নির্বাচনে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

 

 

সূত্র: চ্যানেল ২৪

Print Friendly and PDF