চট্টগ্রাম, মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪ , ৩রা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

এলাকা সম্প্রসারণ ও পাবলিক হল নির্মাণের অঙ্গীকার কেসিসি মেয়রের

প্রকাশ: ১৮ জুলাই, ২০২৩ ১১:২৩ : পূর্বাহ্ণ

দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমে গুনগত মান বজায় রেখে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ সম্পন্ন করতে চান খুলনার নব-নির্বাচিত মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। সেই সঙ্গে সিটি করপোরেশনের এলাকা সম্প্রসারণের উদ্যোগ এবং পাবলিক হল কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে দেড় হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প পাশ করানোর চেষ্টা করবেন তিনি। এছাড়া চলমান কাজ শেষ হলে নগরবাসীর চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে নেয়া হবে নতুন নতুন প্রকল্প। চ্যানেল24 এর সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান সিটি মেয়র।

মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক গত ১২ জুনের নির্বাচনে তৃতীয় দফায় খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। গত ৩ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান। এখন অপেক্ষায় রয়েছেন দায়িত্বভার গ্রহণের। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য গত ১১ মে তিনি পদত্যাগ করেছিলেন। খুলনা সিটি করপোরেশনের বর্তমান পরিষদের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ১০ অক্টোবর।

মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, যেহেতু খুলনা সিটি করপোরেশনে বর্তমানে কোনো মেয়র নেই; তাই কাজের সুবিধার্থে ১০ অক্টোবরের আগেই যে কোনো সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দিয়ে তাকে দায়িত্ব দেয়া হতে পারে। মন্ত্রণালয় থেকে তাকে এ রকম জানানো হয়েছে।

সিটি মেয়র জানান, বর্তমানে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক ও ড্রেন সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর গুনগত মান বজায় রেখে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করবেন। গুরুত্ব দেয়া হবে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে। তবে নগরীর বৃষ্টির পানি ভৈরব ও রূপসা নদী দিয়ে নিষ্কাশিত হয়। এ দুটি নদীর তলদেশ পলি পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। এ দুটি নদী খনন করা প্রয়োজন। তিনি বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানালে তিনি এই কাজে সম্মতি দিয়েছেন।

তিনি জানান, দৌলতপুর বাজার রক্ষা বাঁধ নির্মাণ, ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ২২টি মোড় সম্প্রসারণ এবং ২৪টি পুকুর খননের প্রকল্প চলমান রয়েছে। সড়ক ও ড্রেন সংস্কারসহ এই কাজগুলো সম্পন্ন করতে ২০২৪ সালের পুরোটা সময় লাগতে পারে।

 

দায়িত্ব গ্রহণের পর চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ করার পাশাপাশি ১৮টি মৌজার ৪০ দশমিক ১০ বর্গকিলোমিটার এলাকা সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত করার যে উদ্যোগ চলমান রয়েছে তা কার্যকর করতে সচেষ্ট হবেন। এছাড়া ১ হাজার ৪৯৬ কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষ ‘খুলনা সিটি করপোরেশনের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্প অনুমোদন করানোর চেষ্টা করবেন। এই প্রকল্পের একটি অংশে ৩৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর শিববাড়ি মোড়ে ১৫ তলা বিশিষ্ট পাবলিক হল ভবন নির্মাণের কথা রয়েছে। প্রকল্পটির ব্যাপারে ইতোমধ্যে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন।

তালুকদার খালেক নির্বাচনের আগে ‘স্মার্ট খুলনা’ গড়ে তোলাসহ ৪০ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন। ইশতেহারে জলাবদ্ধতা নিরসনে নগরীর ময়ূর নদী ও ২২টি খাল খনন ও সংস্কার, স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ড্রেন পরিষ্কারের ব্যবস্থা, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ, স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়ন ও নিরাপদ স্বাস্থ্যকর খুলনা, সূর্যোদয়ের আগেই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেন। এছাড়া তার প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে হোল্ডিং ট্যাক্স না বাড়িয়ে সেবার মান বৃদ্ধি, ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন, কেসিসিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রভৃতি।

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের সচেষ্ট হওয়ার আশা প্রকাশ করে বলেন, সকলের সহযোগিতায় খুলনাকে একটি উন্নত, সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিত আধুনিক স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

 

 

সূত্র – চ্যানেল২৪

Print Friendly and PDF