চট্টগ্রাম, বুধবার, ২২ মে ২০২৪ , ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আদা-পেঁয়াজ কমলেও রসুনের দাম বাড়তি বাজারে

প্রকাশ: ৬ জুলাই, ২০২৩ ৩:৪১ : অপরাহ্ণ

বেশ কিছুদিন ঝাঁজ ছড়ানোর পর সরবরাহ বাড়ায় দিনাজপুরের হিলিতে আমদানিকৃত আদা ও পেঁয়াজের দাম খানিকটা কমতে শুরু করেছে। তবে হঠাৎ করেই ঈদের পর থেকে বাড়তির দিকে রসুনের দাম। আদা ও পেঁয়াজের দাম কমায় খুশি নিম্ন আয়ের মানুষ। তবে রসুনের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা, দাম কমার দাবি জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) হিলির কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে প্রতিটি দোকানেই আমদানিকৃত পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের বেশ ভালো সরবরাহ লক্ষ্য করা গেছে।পূর্বে ভারতীয় আদা দেখতে পাওয়া গেলেও বর্তমানে বার্মার আদা বাজারে ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। যার কারণে আদার দাম খানিকটা কম ঈদের আগে যে আদা ৪০০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছিল বর্তমানে তা কমে ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আমদানিকৃত পেঁয়াজ ৩২ টাকা বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কমে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারে দেশীয় পেঁয়াজ কোনো দোকানেই নজরে পড়েনি। তবে নতুন করে দাম বাড়তি রসুনে। ঈদের আগে আমদানিকৃত রসুন ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দেশীয় রসুন ১৪০ টাকা বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যদিও সব দোকানে দেশীয় রসুনের তেমন সরবরাহ নেই তারপরেও যাদের নিকট রয়েছে সেগুলো আগের কেনা থাকায় কম দামে বিক্রি করতে পারছেন।

 

 

হিলি বাজারে আদা কিনতে আসা নারগিস সুলতানা বলেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম যখন ঊর্ধমুখী তখন কিছুটা স্বস্তির খবর আদা ও রসুনের দামে। ঝাঁজ বাড়তে বাড়তে ঈদের আগে যে আদা ৪০০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছিল সেই আদা এখন ২৬০ টাকায় মিলছে। তেমনি পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমে ৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বাড়তি দামের কারণে আমাদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল, দাম কমের কারণে সেই অবস্থা থেকে কিছুটা রেহাই মিলছে। সেই সঙ্গে দাম বাড়তি হওয়ায় পরিমাণ কমিয়ে কিনতে হচ্ছিল। এখন সেটি চাহিদা মোতাবেক কিনতে পারছি। তবে রসুনের দামটা বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদের কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।

 

 

বাজার করতে আসা মাহবুব আলম বলেন, বাজারে আদা ও পেঁয়াজের দাম কমেছে এতে করে আমাদের মত নিম্ন আয়ের মানুষজনের জন্য সুবিধা হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে আবারো রসুনের দামটা বাড়তি এতে করে আমাদের বিপাকের মধ্যে পড়তে হচ্ছে। কয়েকদিন যে দেশীয় রসুন ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছিল সেখানে ভারতীয় রসুন ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়ায় আমরা ভারতীয় রসুন কিনেছিলাম। কিন্তু সেই আমদানিকৃত রসুন দাম বেড়ে এখন ১৪০ টাকা হয়েছে। আর দেশীয় রসুন ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকা হয়েছে। দাম বাড়তি হওয়ার কারণে আমাদের বাধ্য হয়ে ক্রয়ের পরিমাণ কমাতে হচ্ছে আগে এক কেজি কিনলে এখন সেখানে হাফ কেজি কিনছি।

 

 

হিলি বাজারের মসলা বিক্রেতা মশিউর রহমান বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই বাজারে দেশীয় আদার সরবরাহ তেমন নেই। যার কারণে আমদানিকৃত আদা দিয়েই স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটছিল। কিন্তু ভারতে দাম বৃদ্ধি ও বন্দর দিয়ে আমদানি কম হওয়ায় বাজারে আদার দামটা ঊর্ধমুখী হয়েছিল। দাম বাড়তে বাড়তে ৪০০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছিল। বর্তমানে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে দেশের বাজারে বাড়তি চাহিদার কথা মাথায় রেখে আমদানিকারকরা ভারতের পাশাপাশি বার্মা থেকেও আদা আমদানি করছেন। এ কারণে বাজারে আদার সরবরাহ বেড়েছে। এতে করে কেজিতে ১৪০ টাকার মত দাম কমে গেছে। আমরাও কম দামে কিনতে পারছি, তেমনি কমদামেই বিক্রি করছি। এছাড়া ঈদের ছুটির পর বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হওয়ায় বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ ভালো রয়েছে। পূর্বের চেয়ে ২ টাকা কমে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

 

তবে বর্তমান সময়ে রসুনের দামটা বাড়তির দিকে। এর কারণ হলো দেশীয় রসুনের মৌসুম শেষের দিকে হওয়ার কারণে মোকামে রসুনের দাম বাড়তি যে রসুন কয়েকদিন আগে ৬ হাজার টাকা মন কিনলাম সেই রসুন এখন ৭ হাজার টাকা মন হয়ে গেছে। ১৭৫ টাকা আমাদের কিনতেই পড়ছে যার কারণে বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এর কারণে আমদানিকৃত রসুনের ওপর চাপ বেড়েছে কিন্তু সেই তুলনায় আমদানি না হওয়ায় ও সরবরাহ কমের কারণে আমদানিকৃত রসুনের দাম বাড়তির দিকে।

 

 

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দিনাজপুরের সহকারী পরিচালক মমতাজ বেগম বলেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রুখতে আমরা নিয়মিতভাবে বিভিন্ন বাজার মনিটরিং করছি। বিক্রেতাদের ক্রয় বিক্রয়ের ম্যামো দেখে দামের বিষয়টি যাচাই বাছাই করে দেখছি। তারা কি দামে কিনছে আর কি দামে বিক্রি করছে সেটি খতিয়ে দেখছি। যাদের এবিষয়গুলোতে গাফিলতি পরিলক্ষিত হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা করা হচ্ছে।

 

 

সূত্র – চ্যানেল২৪

Print Friendly and PDF