চট্টগ্রাম, মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪ , ৩রা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জাতিসংঘে বাংলাদেশের ‘শান্তির সংস্কৃতি’ রেজল্যুশন গৃহীত

প্রকাশ: ১৫ জুন, ২০২৩ ৩:৪৮ : অপরাহ্ণ

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে স্থানীয় সময় বুধবার (১৪ জুন) বাংলাদেশ উত্থাপিত ‘শান্তির সংস্কৃতি’ রেজল্যুশন সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ আবদুল মুহিত বাংলাদেশের পক্ষে রেজল্যুশনটি উত্থাপন করেন। রেজল্যুশনটি উপস্থাপনের সময় মোহাম্মদ আবদুল মুহিত বিভিন্ন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে শান্তির সংস্কৃতির অব্যাহত প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘সহিংসতা ও সংঘাত উত্তরণে সংলাপ ও সম্প্রীতির মাধ্যমে শান্তির সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জরুরি।’ খবর ইউএনবি

 

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রথম মেয়াদের সরকারের সময় ১৯৯৯ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে রেজল্যুশনটি প্রথমবারের মতো গৃহীত হয়। এর পর থেকে প্রতিবছর বাংলাদেশ এটি সাধারণ পরিষদে উপস্থাপন ও এ বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি ফোরামের আয়োজন করে আসছে।

 

 

২০২২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর উচ্চপর্যায়ের এ ফোরাম অনুষ্ঠিত হয়। ন্যায়বিচার, সাম্যতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি বিনির্মাণ প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করার জন্য শান্তির সংস্কৃতির রূপান্তরমূলক ভূমিকার ওপর আলোকপাত করা হয় এ সভায়।

এবারের রেজল্যুশনে বিশ্বব্যাপী নানাবিধ ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘের সব সদস্যরাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। এটি সর্বস্তরে প্রতিরোধমূলক কূটনীতি ও সংলাপ জোরদারের ওপর জোর দিয়েছে।

এ ছাড়া রেজল্যুশনটি সহিংসতা ও সংঘাতের অন্তর্নিহিত কারণগুলো চিহ্নিত করে তা মোকাবিলা এবং চলমান ডিজিটাল রূপান্তরের প্রেক্ষাপটে শান্তির সংস্কৃতিকে আরও উন্নত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে। মোহাম্মদ আবদুল মুহিত বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রেজল্যুশনটির প্রাসঙ্গিকতা বহুগুণে বেড়েছে। ফলে জাতিসংঘের প্রধান কার্যাবলিতে ‘শান্তির সংস্কৃতি’ ধারণাটি বৃহত্তর পদচিহ্ন রাখতে পেরেছে এবং একটি প্রভাব সৃষ্টিকারী রেজল্যুশনে পরিণত হতে পেরেছে।

 

 

মোহাম্মদ আবদুল মুহিত আরও বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে এটি একটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে প্রমাণিত, যা বিশ্বে শান্তি বজায় রাখতে জাতিসংঘ সনদের দায়বদ্ধতার পরিপূরক হিসেবেও ভূমিকা রেখে চলেছে।এ বছর শতাধিক দেশ বাংলাদেশের এই রেজল্যুশনটিকে কো-স্পনসর করেছে, যা ‘শান্তির সংস্কৃতি’ ধারণা এগিয়ে নিতে একটি ব্যাপক সমর্থন হিসেবে বিবেচিত।

রেজল্যুশনটির প্রতি অব্যাহত এই সমর্থন এবং প্রতিবছর সর্বসম্মতভাবে এটি গ্রহণ, শান্তির প্রবক্তা হিসেবে বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় ধরনের আস্থার সাক্ষ্য বহন করে।

 

 

Print Friendly and PDF