চট্টগ্রাম, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪ , ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ঘরে বসে অ্যাপে মিলছে আইনি সেবা, সন্তুষ্ট বিচারপ্রার্থীরা

প্রকাশ: ৫ জুন, ২০২৩ ২:৪৬ : অপরাহ্ণ

আগে মামলা সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য জানতে ঘুরতে হতো আদালতের এক জায়গা হতে অন্য জায়গায়। এতে সময়ের পাশাপাশি অপচয় হতো অর্থেরও। তবে আমার আদালত অ্যাপস চালুর পর থেকে ঘরে বসে বা ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্রে গেলে মুহূর্তেই জানা যাচ্ছে মামলার সর্বশেষ তথ্য। এতে সবচেয়ে বেশি সুফল পাচ্ছেন রাঙামাটির দুর্গম এলাকার বিচারপ্রার্থীরা।

 

 

দেশের সবচে বড় জেলা রাঙামাটি ভূপ্রকৃতি কারণে দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে কিছুটা ভিন্ন। উপজেলা সদর থেকে জেলা সদরে আসতেই এখানে লেগে যায় প্রায় সারাদিন। এমন জায়গাও রয়েছে যেখানে পৌঁছাতে লাগে দুইদিন। সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য পৌঁছতে না পারায় এসব এলাকার বাসিন্দাদের বিচার পাওয়া নিয়ে অনেক সময় সমস্যায় পড়তে হয়। এই ধরনের সেবায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে বিচারপ্রার্থীরা। আর আর সকল আদালতে এই কার্যক্রম শুরু হলে বিচার প্রার্থীদের দুর্ভোগ কমবে বলে মত পিঁপিঁর।অ্যাপসের মাধ্যমে জানা যাবে মামলার দৈনন্দিন কার্যতালিকা। এছাড়া চালু আছে জুডিশিয়াল মনিটরিং ড্যাশবোর্ড। এ সেবার মাধ্যমে বিচার প্রার্থীদের দুর্ভোগ কমে আসবে বলে মনে করেন আইনজীবীরা।

 

 

আদালত সূত্র থেকে যানা যায়, জুডিশিয়াল মাজিস্ট্রেট আদালতে ১ হাজার ৫৩২ মামলার শতভাগ অনলাইনে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ৭ হাজার মামলার মধ্যে প্রায় ৪ হাজার অনলাইনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বাকিগুলো প্রক্রিয়াধীন।

রাঙামাটির লংগদু উপজেলার বাসিন্দা সোহেল রানা। গত ৪ এপ্রিল তার মামলার শুনানি হয়। আইনজীবীর ব্যস্ততার কারণে মামলার পরবর্তী তারিখ মামলার অবস্থা জেনে যেতে পারেনি। ইতোমধ্যে গত ১৪ এপ্রিল হতে সরকারের নির্দেশে রঙ্গামাটি আদালতের চলমান মামলার তথ্য দেয়া হচ্ছে অনলাইনে। তাই নিজের মোবাইল থেকে অ্যাপসের মাধ্যমে জেনে নিচ্ছেন মামলার বর্তমান অবস্থা।

সোহেল রানা বলেন, আগে মামলার তথ্য জানতে অনেক কষ্ট হত। পেশকার বা আইনজীবী কাছে ধর্না দিতে হত। এখন নিজের মোবাইল থেকে সব তথ্য পেয়ে যাচ্ছি। এটা আমাদের জন্য অনেক সুবিধা হয়েছে।

 

 

অপর বিচার প্রার্থী মো. আরিফুর ইসলাম বলেন, মোবাইলে আমি আমরা মামলার সর্বশেষ তথ্য নিজেই জেনেছি। এতে করে কোনো হয়রানী স্বীকার হতে হলো না। তিনি আরও বলেন, আগে হাজিরা বা শুনানির তারিখের জন্য পেশকার বা আইনজীবীকে ফোন করতে হতো। অনেক সময় তারাও কাজে ফোন ধরত না। ২-৩ হাজার টাকা খরচ করে কোর্টে আসতাম। এভাবে অনেক সময় তারিখ জেনে নিতে হয়েছে। এখন আর কাউকে ফোনও করতে হচ্ছে না।

 

 

আইনজীবী আফসার আলী বলেন, আমরা সরকারে এমন উদ্যোগে স্বাগত জানাই। অনেক সময়
ব্যস্ততার কারণে আমরা মক্কেলদের মামলা বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে সময় লাগতো। এতে বিচার প্রার্থীরা ভোগান্তিতে পড়তেন। কিন্তু এই সেবার মাধ্যমে বিচারপ্রার্থী নিজেই নিজের মামলার সব তথ্য জানতে পারছেন, এতে আমাদের ওপর চাপটা অনেক কমে গেছে।

 

 

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিঁপিঁ অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম অভি বলেন, এটা স্মার্ট বাংলাদেশের স্মার্ট কাজ। সরকার সব ক্ষেত্রে সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে গেছেন। এটা তার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ।

এই সেবার মাধ্যমে আদালতে বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ কমে আসবে বলে জানালেন, পাবলিক প্রসিকিউট (পিঁপিঁ) ও রাঙামাটি আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি আরও বলেন, এই অ্যাপসের বিষয়ে এখনো অনেকে জানে না। সব বিচারপ্রার্থীদের বিষয়টি জানানোর ব্যবস্থা করা হলে। সবারই সুবিধা হবে।

 

 

সূত্র – চ্যানেল২৪

Print Friendly and PDF