চট্টগ্রাম, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪ , ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আবারও গাউছিয়া মার্কেটকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা, ফায়ার সার্ভিসের ২০ সুপারিশ

প্রকাশ: ২২ মে, ২০২৩ ১০:২৬ : পূর্বাহ্ণ

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকার গাউছিয়া সুপার মার্কেটকে অগ্নিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করেছে ফায়ার সার্ভিস। একই সঙ্গে মার্কেটটি নিরাপদ করার জন্য অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রপাতি স্থাপনসহ ২০টি সুপারিশ করা হয়েছে।

রোববার (২১ মে) বেলা ১১টা থেকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, তিতাস, ঢাকা ওয়াসা এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসআই) সমন্বিতভাবে পরিদর্শন করে গাউছিয়া মার্কেট। পরিদর্শন শেষে মার্কেটটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সমন্বিত পরিদর্শন টিম। এর আগে গত ৬ এপ্রিল মার্কেটটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছিল ফায়ার সার্ভিস।

মার্কেটটি পরিদর্শন শেষে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, গাউছিয়া মার্কেট আমরা সমন্বিতভাবে পরিদর্শন করেছি।  এখানে আগেও পরিদর্শনের পর যেসব সুপারিশ দিয়েছিলাম, সেসবের অনেকগুলোই বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তবে কিছু ঘাটতি রয়েছে এখনো।

 

 

মার্কেট কর্তৃপক্ষকে ২০ সুপারিশের ব্যাপারে মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, পরিদর্শন শেষে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামাদির ঘাটতি পূরণসহ মোট ২০টি সুপারিশ করা হয়েছে। সেসব জরুরি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের জন্য মালিক সমিতিকে বলা হয়েছে। এছাড়া মার্কেটটি যে অগ্নিঝুঁকিতে রয়েছে, সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সে কথাও জানান তিনি।

অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য মালিক সমিতিকে ২০ সুপারিশের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে রাষ্ট্রীয় চার সংস্থা।

ফায়ার সার্ভিসের সুপারিশগুলো হলো—

১. এক্সিট সাইন/ইমারজেন্সি লাইট জরুরিভাবে সিঁড়ির পার্শ্বে স্থাপন করতে হবে।
২. জরুরি নম্বরসমূহ দৃশ্যমান স্থানে স্থাপন করতে হবে।
৩. কলপয়েন্ট সুইচ স্থাপন করতে হবে।
৪. ফায়ার অ্যালার্ম বেল স্থাপন করতে হবে।
৫. ফায়ার পাম্প স্থাপন করতে হবে এবং সেটি আন্ডারগ্রাউন্ড পানির ট্যাংকের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে।

 

৬. প্রতি ফ্লোরের জন্য ফায়ার হাইড্রেন্ট ব্যবস্থা (রাইজারসহ) স্থাপন করতে হবে।
৭. ফ্লোরভিত্তিক ডেলিভারি হোজপাইপ স্থাপন করতে হবে (২.৫ ইঞ্চি ডায়া বিশিষ্ট)।
৮. প্রয়োজন অনুযায়ী পানির রিজার্ভার (আন্ডারগ্রাউন্ড) ট্যাংক বাড়াতে হবে।
৯. প্রতিটা ফ্লোরের জন্য পি এ সিস্টেম স্থাপন করতে হবে।
১০. সাব-স্টেশন ও জেনারেটর রুমের জন্য ফায়ার ডোর স্থাপন করতে হবে।

 

১১. প্রয়োজনীয় ফায়ার এক্সটিংগুইসার (প্রতি ৫৫০ বর্গফুটের জন্য ০১ টি করে) স্থাপন করতে হবে।
১২. ছাদের দরজা সর্বদা খোলা রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।
১৩. ফায়ার রেটেড ওয়াল ( সাব স্টেশন রুমে এবং জেনারেটর রুমে) স্থাপন করতে হবে এবং ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা করতে হবে।
১৪. ফ্লোরভিত্তিক প্রয়োজনীয় ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে।
১৫. জেনারেটর এবং সাব-স্টেশন রুমের ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা ( ফায়ার সাফ্রেশন সিস্টেম) স্থাপন করতে হবে, রাবার মেট স্থাপন করতে হবে ও ক্যাবলগুলোর আর্থিং নিশ্চিত করতে হবে।

১৬. করিডোর, চলাচলের পথ পরিষ্কার/বাঁধামুক্ত রাখতে হবে ও সিঁড়িপথের দোকানগুলো অপসারণ করতে হবে।
১৭. বৈদ্যুতিক লাইনগুলো অনুমোদিত ইলেক্ট্রিক ইঞ্জিনিয়ার দ্বারা মাঝে মাঝে চেক (পরীক্ষা) করতে হবে ও বৈদ্যুতিক তারগুলো নির্দিষ্ট চ্যানেল বোর্ডের ভেতর দিয়ে নিতে হবে।
১৮. ইলেক্ট্রিক হিটার, ইলেক্ট্রিক ওভেন ও কফিশপের দোকানগুলোর ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
১৯. ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রশিক্ষিত ফায়ার ফাইটারের ব্যবস্থা করতে হবে ও মহড়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
২০. ভবনের প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরুরিভিত্তিতে ফায়ার লাইসেন্স করতে হবে।

 

Print Friendly and PDF