চট্টগ্রাম, শুক্রবার, ২ জুন ২০২৩ , ১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

যে পদ্ধতিতে বেছে নেয়া হবে ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ৪৮ দল

প্রকাশ: ২১ মে, ২০২৩ ৫:৩৪ : অপরাহ্ণ

কাতার বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে পাঁচ মাস হলো। এরই মধ্যে ২০২৬ বিশ্বকাপের উন্মাদনা শুরু হয়েছে। যার স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। বিশ্বকাপের ২৩তম আসরটি অনুষ্ঠিত হবে একেবারে নতুন আঙ্গিকে। ইতোমধ্যে আসরটির লোগো উন্মোচন করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ফিফা)। নির্ধারণ হয়েছে বিশ্বকাপের ফাইনালের তারিখও।

কাতার বিশ্বকাপে ৩২ দল অংশ নিলেও ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো অংশ নেবে ৪৮টি দল। সেক্ষেত্রে ম্যাচ সংখ্যাও বেড়ে যাবে। কাতারে যেখানে সবমিলে ম্যাচ হয়েছিল ৬৪টি। সেখানে বিশ্বকাপের ২৩তম আসরে ম্যাচ হবে ১০৪টি। এতে করে ফাইনাল খেলা দু’দল ও তৃতীয়স্থান নির্ধারণী ম্যাচের দু’দল একটি করে ম্যাচ বেশি খেলার সুযোগ পাবে। কাতারে ৭টি ম্যাচ খেললেও যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে খেলবে ৮টি করে ম্যাচ।

 

 

ইতোমধ্যে লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশ বিশ্বকাপ বাছাইয়ে নিজেদের তারিখ ও ফরমেট ঘোষণা করেছে। আফ্রিকা মহাদেশ তাদের ফরমেটে বেশ পরিবর্তন এনেছে। যেখানে তারা অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে ৯টি গ্রুপে ভাগ করেছে। ৯ গ্রুপের ৯ চ্যাম্পিয়ন পাবে ২০২৬ বিশ্বকাপে টিকিট। তবে বাকি মহাদেশগুলোর বেশির ভাগেরই বাছাইপর্ব বেশ জটিল। আসুন দেখে নেব কোন মহাদেশ থেকে কীভাবে বাছাই করা হবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ৪৮ দল।

এশিয়া মহাদেশ 
এ মহাদেশ থেকে বাছাই পর্বে অংশ নেবে সর্বমোট ৪৭টি দল। কোয়ালিফাই রাউন্ডের খেলা চলবে ১২ অক্টোবর ২০২৩ থেকে ১৪ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত। ১ম ও ২য় রাউন্ডের ড্র হবে ২৭ জুলাই ২০২৩। সবচেয়ে জটিল বাছাইপর্ব হবে এশিয়ায়। সব মিলিয়ে পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ার বাছাইপর্ব।

 

প্রথম রাউন্ড
২৭ জুলাই ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে তলানিতে থাকা মহাদেশের ২২ দল হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে দুই লেগের প্লে-অফ খেলবে। জয়ী ১১ দল উঠবে দ্বিতীয় রাউন্ডে।

 

দ্বিতীয় রাউন্ড
র‌্যাঙ্কিংয়ে এশিয়ার শীর্ষ ২৫ দলের সঙ্গে যোগ দেবে প্রথম রাউন্ড পার হওয়া ১১ দল। ৩৬ দলকে ৯টি গ্রুপে ভাগ করা হবে। হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে রাউন্ড রবিন লিগ শেষে প্রতি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দল তৃতীয় রাউন্ডে উঠবে।

 

তৃতীয় রাউন্ড
১৮টি দলকে ৩টি গ্রুপে ভাগ করে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে পদ্ধতিতে রাউন্ড রবিন লিগ শেষে তিন গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দল ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট পাবে। গ্রুপে তৃতীয় ও চতুর্থ হওয়া ছয় দল যাবে চতুর্থ রাউন্ডে।

 

চতুর্থ রাউন্ড
ছয়টি দলকে দুই গ্রুপে ভাগ করে সিঙ্গেল লিগের পর্ব শেষে দুই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন পাবে বিশ্বকাপের টিকিট পাবে।

 

পঞ্চম রাউন্ড
চতুর্থ রাউন্ডের দুই গ্রুপ রানার্সআপ প্লে-অফ খেলবে। জয়ী দল যাবে আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফে।

 

 

আফ্রিকা মহাদেশ
এ মহাদেশ থেকে অংশ নেবে ৫৪টি দল। কোয়ালিফাই রাউন্ডের খেলা চলবে ১৩ নভেম্বর ২০২৩ থেকে ১৮ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত। ড্র অনুষ্ঠিত হবে ১২ জুলাই ২০২৩।

প্রথম রাউন্ডে ৫৪টি দলকে ৯টি গ্রুপে ভাগ করা হবে। হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে রাউন্ড রবিন লিগ শেষে ৯ গ্রুপের ৯ চ্যাম্পিয়ন পাবে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট।

দ্বিতীয় রাউন্ডে সেরা চার গ্রুপ রানার্সআপ প্লে-অফ খেলবে। নকআউট প্লে-অফ শেষে একটি দল সুযোগ পাবে আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফে।

 

উত্তর আমেরিকা মহাদেশ
এ মহাদেশ থেকে অংশ নেবে ৩২টি দল। কোয়ালিফাই রাউন্ডের খেলা চলবে মার্চ ২০২৪ থেকে নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত। এ মহাদেশের খেলার ড্রয়ের সময় এখনো ঠিক হয়নি। এ মহাদেশের অন্তর্গত তিন স্বাগতিক কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি খেলবে বিশ্বকাপে।

 

প্রথম রাউন্ড
আগামী নভেম্বরে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে মহাদেশের তলানির চার দল দুই লেগের দুটি প্লে-অফ খেলবে। জয়ী দুই দল দ্বিতীয় রাউন্ডে যাবে।

 

দ্বিতীয় রাউন্ড
৩০টি দলকে ৬টি গ্রুপে ভাগ করা হবে। সিঙ্গেল লিগ শেষে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপরা তৃতীয় রাউন্ডে উঠবে।

 

তৃতীয় রাউন্ড
১২টি দল ৩ গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে। ডাবল রাউন্ড রবিন লিগ শেষে তিন গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন তিন দল বিশ্বকাপের টিকিট পাবে। সেরা দুই রানার্সআপ দল যাবে আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফে।

 

 

দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ
এ মহাদেশ থেকে অংশ নেবে ১০টি দল। কোয়ালিফাই রাউন্ডের খেলা চলবে সেপ্টেম্বর ২০২৩ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত। আগের মতোই ডাবল লিগ পদ্ধতিতে খেলবে মহাদেশের ১০ দল। শীর্ষ ৬ দল সরাসরি ২০২৬ বিশ্বকাপে সুযোগ পাবে। পয়েন্ট তালিকার সপ্তম দল সুযোগ পাবে আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফে।

 

ওশেনিয়া অঞ্চল
এ মহাদেশ থেকে ১১টি দল অংশগ্রহণ করবে। তবে কোয়ালিফাই ম্যাচগুলোর সময় ও ড্রয়ের সময় এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

এবারই প্রথম ওশেনিয়া অঞ্চল থেকে একটি দল সরাসরি বিশ্বকাপে যাবে। আর একটি দল যাবে আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফে। কীভাবে খেলা হবে, সেটি এখনো ঠিক করেনি ওএফসি।

 

ইউরোপ মহাদেশ
এ মহাদেশ থেকে সর্বমোট ৫৫টি দল অংশ নেবে। কোয়ালিফাই রাউন্ডের ম্যাচ গড়াবে মার্চ ২০২৫ থেকে নভেম্বর ২০২৫ এর মধ্যে। ড্রয়ের সময় এখনও ঠিক হয়নি।

চার অথবা পাঁচ দলের ১২টি গ্রুপ করা হবে। ১২ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন সরাসরি বিশ্বকাপে যাবে। সেরা চার রানার্সআপ বিশ্বকাপে যাবে নাকি প্লে-অফ থেকে বাছাই করা হবে চার দল, সেটি এখনো ঠিক হয়নি।

 

আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফ
প্লে-অফের ছয় দলের মধ্যে র‌্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা শেষ চারটি দল দুটি নকআউট ম্যাচ খেলবে। জয়ী দুই দল র‌্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা দুই দলের বিপক্ষে নকআউট ম্যাচ খেলবে। জয়ী দুই দল বিশ্বকাপে যাবে।

 

Print Friendly and PDF