চট্টগ্রাম, বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪ , ৫ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কেসিসিতে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে না মেয়র নির্বাচন!

প্রকাশ: ১৬ মে, ২০২৩ ১০:৫৬ : পূর্বাহ্ণ

নিজের আগ্রহ থাকলে দলের সিদ্ধান্তের কারণে শেষ পর্যন্ত  খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন না মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিগত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এছাড়া মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও প্রার্থী না হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল গফফার বিশ্বাস।

এ অবস্থায় আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেকের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ছয় প্রার্থী। ওই পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে শক্তিশালী প্রার্থী না থাকায় মেয়র পদে নির্বাচন তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে না বলে মনে করছেন নগরবাসী।

বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, তিনি মেয়র পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি ঢাকায় গিয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গেও কথা বলেন। কিন্তু দলের নেতারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। এছাড়া তাকে প্রার্থী না হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। সে কারণে দলের সিদ্ধান্ত মেনে তিনি প্রার্থী হচ্ছেন না। মনোনয়নপত্রও সংগ্রহ করেননি।

 

 

সাবেক সংসদ সদস্য ও মহানগর জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি আব্দুল গফফার বিশ্বাস গত সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ আমাকে সিটি নির্বাচনে অংশ না নিয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে অনুরোধ করেছেন। সে কারণে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও তা জমা দিচ্ছি না।

মেয়র পদে প্রার্থী হচ্ছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহানগর সভাপতি মাওলানা আব্দুল আউয়াল, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শফিকুল ইসলাম মধু, জাকের পার্টির এস এম সাব্বির হোসেন, স্বতন্ত্র এস এম মুশফিকুর রহমান, মো. আবদুল্লাহ চৌধুরী ও সৈয়দ কামরুল ইসলাম।

 

 

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের তালুকদার খালেক ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৫১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু পেয়েছিলেন ১ লাখ ৯ হাজার ২৫১ ভোট। ইসলামী আন্দোলনের মুজ্জাম্মিল হক ১৪ হাজার ৩৬৩ ভোট, জাতীয় পার্টির এস এম মুশফিকুর রহমান ১ হাজার ৭২ ভোট পান।

 

 

২০১৩ সালে মেয়র পদে নির্বাচন করে মাত্র ৩ হাজার ৭৬ ভোট পেয়েছিলেন জাতীয় পার্টির শফিকুল ইসলাম মধু। মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে নগরীতে জাকের পার্টির এস এম সাব্বির হোসেন ও স্বতন্ত্র সৈয়দ কামরুল ইসলামের কোনো পরিচিতি নেই। এই প্রথমবার কোনো নির্বাচনে তারা প্রার্থী হচ্ছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবদুল্লাহ চৌধুরী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আগুয়ান-৭১ এর আহ্বায়ক ও বেসরকারি একটি মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেছেন। জীবনে প্রথমবার নির্বাচনের মাঠে নেমেছেন এই তরুণ।

 

 

আর তালুকদার খালেক ৪ বার সংসদ সদস্য, একবার ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ও কেসিসিতে ২ বার মেয়র ছিলেন। মহানগর আওয়ামী লীগে সভাপতি পদে রয়েছেন টানা ১৯ বছর।

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) খুলনার সভাপতি অ্যাডভোকেট কুদরত ই খুদা বলেন, বিএনপি প্রার্থী না দেয়ায় আওয়ামী লীগের তালুকদার খালেকের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। ফলে শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন হলেও কে বিজয়ী হবে তা ভোটাররা আগেই ধারণা করতে পারছে। অন্য প্রার্থীদের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসার মতো ভোট নেই।

 

 

খুলনা নাগরিক সমাজ এর সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. বাবুল হাওলাদার বলেন, বিএনপির প্রার্থী না থাকায় গত নির্বাচনে তৃতীয় অবস্থানে থাকা ইসলামী আন্দোলনই হবে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। তবে আওয়ামী লীগ ও ইসলামী আন্দোলন প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান অনেক বেশি হবে বলে সবার ধারণা।

 

 

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান মনে করেন, বিএনপির প্রার্থী না থাকায় বিদায়ী মেয়র তালুকদার খালেকের সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসার মতো কোনো প্রার্থী নেই। তালুকদার খালেকের তুলনায় অন্যরা সবাই দুর্বল প্রার্থী। এবারের ভোটের মাঠে তালুকদার খালেকই সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী।

 

 

তবে বিদায়ী মেয়র তালুকদার খালেক বলেন, ভোটের মাঠে অন্যরা সবাই আমার প্রতিদ্বন্দ্বী। আমি কাউকেই দুর্বল মনে করছি না।

ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আবদুল আউয়াল বলেন, বিএনপির প্রার্থী না থাকায় বিএনপির ভোট ইসলামী আন্দোলনের পক্ষে আসবে। এছাড়া আওয়ামী লীগেরও একটা অংশ আছে যারা ধর্মপ্রাণ, তারা ইসলামকে সমর্থন করবে এটা আশা করি। ফলে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী বিজয়ী হবে বলে তিনি আশাবাদী।

 

 

জাতীয় পার্টির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মধু বলেন, মেয়র পদে নগরবাসী পরিবর্তন ও নতুন নেতৃত্ব চায়। আগামী দিনের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন। সে জন্য ভোটারা আমাকে বেছে নেবে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মুশফিকুর রহমান বলেন, মেয়র পদে মানুষ পরিবর্তন চায়। আমাকে দিয়েই সেই পরিবর্তন সম্ভব। সে কারণে প্রার্থী হয়েছি।

 

 

সূত্র – চ্যানেল২৪

Print Friendly and PDF