চট্টগ্রাম, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ , ১৬ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন ২৩ অপারেটরের কাজ করতে বাধা নেই: আপিল বিভাগ

প্রকাশ: ১০ মে, ২০২৩ ১২:৪০ : অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে পণ্য খালাসের জন্য ‘শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর’ হিসেবে নতুন লাইসেন্স পাওয়া ২৩টি প্রতিষ্ঠান কাজ চালিয়ে যেতে পারবে বলে আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

বুধবার (১০ মে) সকালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের আপিল বিভাগ নতুন শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরদের কাজ করতে পারবে না বলে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে দেন। সেই সঙ্গে হাইকোর্টকে দ্রুত এ মামলার রুল শুনানির জন্যও নির্দেশ দেন সর্বোচ্চ আদালত।

বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৩ অপারেটর কাজ করলেও নতুন লাইসেন্স দেয়াদের নিয়ে ছিল তাদের আপত্তি। ২৭ এপ্রিল এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে যা স্থগিত করে দেন বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ।

 

 

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজে পণ্য খালাসে অতিসম্প্রতি ২৩টি প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর হিসেবে লাইসেন্স দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় চবক বোর্ড।

নতুনদের এ তালিকায় কর্তৃপক্ষ স্বাক্ষর করে গত ২৬ এপ্রিল। এ কয়দিন বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। আর সৃষ্টি হয় তোলপাড়। ফলে তালিকাটি রাখা হয় কঠোর গোপনীয়তায়।

তালিকায় প্রথমে থাকা প্রতিষ্ঠানটি হল শালুটিকার অ্যাসোসিয়েটস। এরপর আছে কে এ এস ট্রেডিং, আরিয়ান ট্রেডার্স লি., খুলনা ইউনিয়ন এন্টারপ্রাইজ লি., বিসমিল্লাহ মেরিন সার্ভিসেস, এন এমটি-এমএসএন লি., ব্রিজেক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লি., জিডি হারবার সার্ভিসেস, লামিসা এন্টারপ্রাইজ, পোর্ট হারবার ইন্টারন্যাশনাল, গুড অ্যালায়েন্স সার্ভিসেস লি., আহমেদ মেরিটাইম লজিস্টিকস, আর কে করপোরেশন, শাহী শিপিং অ্যান্ড ট্রেডিং, মা ট্রেডিং, এস ট্রেডিং, তাইফুল এন্টারপ্রাইজ, কিউ এন এস গ্লোবাল লজিস্টিকস লি., কেয়ার শিপিং অ্যান্ড ফ্রেইট লি., ওশেন কন্ট্রাক্টিং অ্যান্ড সাপ্লাইং ফার্ম, গফুর ব্রাদার্স অ্যান্ড কোম্পানি, এস এস কনসাল্টিং লি. এবং এ বি করপোরেশন।

 

 

তবে তালিকায় এসব প্রতিষ্ঠানের মালিক বা আবেদনকারীর নাম উল্লেখ নেই, রয়েছে কেবল ঠিকানা। অভিযোগ রয়েছে, শিপিং ব্যবসায় অভিজ্ঞ বা পুরোনোদের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিবেচনায় লাইসেন্স পাচ্ছে বেশ কয়েকজন। যাদের মধ্যে রয়েছে ছাত্রলীগ-যুবলীগ এবং ছাত্রদল-যুবদলের সাবেক কয়েকজন নেতা। ঠিকানা অনুযায়ী লাইসেন্সের জন্য মনোনীত এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চট্টগ্রামের ১৬টি। ঢাকার প্রতিষ্ঠান আছে ৫টি। আর যশোর এবং খুলনার ১টি করে।

 

 

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এখন শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর আছে ৩২ জন। নতুন শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট করে এস টি এন্টারপ্রাইজ নামের পুরনো এক শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২৭ এপ্রিল আদালত ৬ মাসের জন্য এ কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে এবং বন্দরের এ সংক্রান্ত কমিটির ৩ সদস্যকে কারণ দর্শানোরও নির্দেশ দেয়।

 

 

সূত্র – চ্যানেল২৪

Print Friendly and PDF